কাস্পিয়ান সাগরে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার শিকার হওয়া একটি ইরানি জাহাজকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি বলেছেন, হামলার শিকার জাহাজটি সম্পূর্ণ বেসামরিক ছিল এবং এতে কোনো সামরিক সরঞ্জাম বহন করা হচ্ছিল না। একই সঙ্গে তিনি এ ঘটনাকে ‘অপরাধমূলক হামলা’ আখ্যা দিয়ে রাশিয়ার কাছ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জালালি জানান, হামলায় একজন ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, হামলার পর রাশিয়ার আস্ত্রাখানে অবস্থিত ইরানি কনস্যুলেট রুশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ইরানি নাবিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করে।
তিনি আরও জানান, রোববার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের মধ্যে অনুষ্ঠিত টেলিফোন আলাপের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল এই হামলা।
জালালির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই আলোচনায় আব্বাস আরাগচি স্পষ্টভাবে বলেন, হামলার জবাব দেওয়ার অধিকার ইরানের রয়েছে। তবে এ বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব গ্রহণ করবে।
রাষ্ট্রদূত জানান, ‘আন্না’ নামের জাহাজটি ভলগা নদীর প্রবেশমুখ থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে বৈরী আবহাওয়া কেটে যাওয়ার অপেক্ষায় নোঙর করে ছিল। সেই সময় ইউক্রেনের একটি ড্রোন জাহাজটিতে হামলা চালায়।
রাশিয়ার আঞ্চলিক জলসীমার ভেতরে এই হামলার পর মস্কোর পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জালালি বলেন, এ ধরনের প্রত্যাশা যৌক্তিক।
তিনি বলেন, “বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে রাশিয়া এই অপরাধমূলক হামলার বিষয়ে কঠোর ও গুরুত্বসহকারে প্রতিক্রিয়া জানাবে—এমনটাই ইরানের প্রত্যাশা।”

