কুমিল্লায় ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আট মাসের শিশু ইসরাত জাহান হত্যার ঘটনায় শোক ও আতঙ্ক নেমে এসেছে দেবিদ্বারে। একই ঘটনায় শিশুটির দাদি পেয়ারা বেগম নিহত এবং মা রাবেয়া আক্তার গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ইমন (২৫) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাতে ইমন আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। এ সময় তার মা পেয়ারা বেগম ও ভাবি রাবেয়া আক্তার তাকে বাধা দেন। পরে সোমবার সকালে এ বিষয়কে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ইমনের কথা-কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে ইমন ঘরে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মা ও ভাবিকে আঘাত করেন। এ সময় মায়ের কাছে থাকা আট মাসের শিশু ইসরাত জাহানও গুরুতরভাবে আক্রান্ত হয়। পরে স্থানীয়রা ঘটনাটি জানতে পেরে ইমনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন।
আহত অবস্থায় পেয়ারা বেগম, শিশু ইসরাত ও রাবেয়া আক্তারকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পেয়ারা বেগম ও শিশু ইসরাতকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত রাবেয়া আক্তারকে পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় নিহত শিশু ইসরাতের বাবা বাদী হয়ে ইমনকে আসামি করে মামলা করেছেন। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, ইমন দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ফুটবল খেলতে গিয়ে তার পায়ের লিগামেন্টে সমস্যা হয় এবং পরবর্তীতে অস্ত্রোপচারও করা হয়। এরপর থেকে তার আচরণে পরিবর্তন দেখা দিয়েছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
ঘটনার পর নিহতদের দাফনের জন্য দেবিদ্বার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সোমবার আসরের পর নিহত পেয়ারা বেগম ও শিশু ইসরাতের দাফন সম্পন্ন হয়।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, আসামি ইমনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।










