ঝালকাঠিতে ধর্ষণ মামলার বিচার চলাকালে আসামিকে বিয়ে করার দাবি জানিয়ে আদালতে হট্টগোল করেছেন মামলার বাদী এক নারী। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঝালকাঠি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার যুক্তিতর্ক শুনানির সময় এ ঘটনা ঘটে।
মামলার বাদী ৩০ বছর বয়সী ওই নারী রাজাপুর উপজেলার বাসিন্দা। মামলার আসামি মো. আল-আমিন মোল্লা রাজাপুর থানার সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)।
আদালতে উপস্থিত আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তিতর্ক চলার সময় বাদী বারবার হট্টগোল শুরু করেন। বিচারক, আইনজীবী ও নারী পুলিশ সদস্যরা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি বিচারকের কাছে আসামির কোনো শাস্তি না দিয়ে তার সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
বাদী বলেন, আসামির সাজা হলে তাকেও ফাঁসি দিতে হবে। তিনি আসামির শাস্তি চান না, বরং তাকে স্বামী হিসেবে চান এবং তার চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিও জানান। পরে আদালতে কাজি ডেকে আসামির সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আককাস সিকদার জানান, বাদী এ বিষয়ে আদালতে লিখিত আবেদনও দিয়েছেন। সেখানে তিনি আসামিকে স্বামী হিসেবে পাওয়ার দাবি করেছেন। বিয়ের ব্যবস্থা না করা হলে নিজে ও তার আগের স্বামীর সন্তানকে নিয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মল্লিক মুহা. নাসির উদ্দিন কবীর বলেন, যুক্তিতর্কের সময় বাদী তার ওপরও চড়াও হন এবং উচ্চস্বরে কথা বলেন। এতে আদালতের শুনানি ব্যাহত হয়।
মামলার নথি ও রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ওই নারী আল-আমিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়, ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। পরে মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
মামলার বাদী সাংবাদিকদের বলেন, তিনি আল-আমিনকে স্বামী হিসেবে পাওয়ার জন্যই মামলা করেছেন এবং তাকে সাজা দিয়ে তার কোনো লাভ নেই।








