দেশের আদালতগুলোতে প্রায় ৪ লাখ ৪৬ হাজার মাদক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত পাঁচ বছর বা তার বেশি সাজাযোগ্য মামলার সংখ্যা ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৩৩টি। বিপুলসংখ্যক মাদক মামলা সাধারণ আদালতে চলায় হত্যা, ধর্ষণসহ অন্যান্য গুরুতর ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি বিচারিক চাপও বাড়ছে।
মাদক মামলার বিচার দ্রুত করতে সরকার আইন সংশোধন করে পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে মোট ২২টি মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। তবে এসব ট্রাইব্যুনালের জন্য এখনো স্বতন্ত্র বিচারিক পদ সৃষ্টি হয়নি।
ফলে বর্তমানে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং মহানগর দায়রা জজ পর্যায়ের বিদ্যমান বিচারকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে ট্রাইব্যুনালগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ একজন বিচারককে নিজের মূল আদালতের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মাদক ট্রাইব্যুনালের মামলাও পরিচালনা করতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২২টি ট্রাইব্যুনালের জন্য অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার ২২টি পৃথক বিচারিক পদ সৃষ্টির প্রস্তাব প্রায় এক মাস আগে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো পদ সৃজনের প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।
সম্প্রতি সংশোধিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পাঁচ বছর বা তার বেশি সাজাযোগ্য মাদক অপরাধের বিচার দ্রুত করতে ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান যুক্ত করা হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চলমান মামলাগুলোও সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পৃথক ট্রাইব্যুনালের মূল উদ্দেশ্য মাদক মামলার বিচার দ্রুত করা এবং সাধারণ আদালতের মামলাজট কমানো। কিন্তু স্বতন্ত্র বিচারক ও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকলে এই উদ্যোগের কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।
সাবেক জেলা ও দায়রা জজ ড. মো. শাহজাহান সাজু মনে করেন, ট্রাইব্যুনাল গঠনের সঙ্গে বিচারকসহ প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তাও নিশ্চিত করা জরুরি। তার মতে, বিচারক সংকটের কারণে বিদ্যমান বিচারকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে।










