নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ থাকা হেলাল উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার তিন দিন পর সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মেঘনার শাখা মারিখালি নদী থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
এর আগে শনিবার সকালে মেঘনা নদী থেকে হেলাল উদ্দিনের তিন সন্তান সজিব, সামিয়া ও শিশু সামিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিখোঁজ চারজনের সবাইকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার শ্রীমন্দী গ্রাম থেকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের সোনাময়ী গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন স্বজনেরা। ট্রলারটিতে গরু-ছাগলসহ মোট ১৩ জন যাত্রী ছিলেন।
ট্রলারটি সোনারগাঁয়ের বৈদ্যারবাজার এলাকার কাছাকাছি পৌঁছালে হঠাৎ বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঝড়ের কবলে পড়ে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। রাশিদা নামে এক নারীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে হেলাল উদ্দিন ও তার তিন সন্তান নদীর প্রবল স্রোতে তলিয়ে নিখোঁজ হন।
ঘটনার পর নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। শনিবার তিন সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের পর সোমবার দুপুরে পিরোজপুর ইউনিয়নের হাত-কোপা ও রতনপুর এলাকার মাঝামাঝি নতুন ব্রিজের নিচে মারিখালি নদীতে হেলাল উদ্দিনের মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে ফায়ার সার্ভিস জানায়, হেলাল উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে নিখোঁজ চারজনের সন্ধানে যৌথ উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে।
একই পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।









