খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) র্যাগিংয়ের পৃথক ঘটনায় ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের ১৬ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ছয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার এবং অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত ২৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের ২৮তম সভায় তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিনের স্বাক্ষরিত ২৮ অক্টোবরের এক স্মারকে এ তথ্য জানানো হয়।
স্মারক অনুযায়ী, গত ৬ মে ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ২০২৬ ব্যাচের ১২ শিক্ষার্থী একই ডিসিপ্লিনের ২০২৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের দ্বারা র্যাগিংয়ের শিকার হন। এ ঘটনায় প্রণয় কুমার ঘোষকে দুই টার্মের জন্য বহিষ্কার ও ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মো. জুবায়ের হোসেনকে এক টার্মের বহিষ্কারাদেশের পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ছয় শিক্ষার্থীকে পাঁচ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, গত ১৪ আগস্ট রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত হল রোডসংলগ্ন নয়ন সড়কের একটি আবাসিক বাসায় ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের ২০২৫ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক উপস্থিত হতে বাধ্য করার অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় মুশফিকুল হক মাহিদকে দুই টার্ম এবং মো. মারুফ সরোয়ার, মো. মিশন রহমান ও মো. খায়রুল ইসলামকে এক টার্ম করে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আরও চার শিক্ষার্থীকে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত সব শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে।
ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিন জানান, অভিযোগের পর অডিও, ভিডিও, ছবি ও অন্যান্য সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে তদন্ত করা হয়। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, র্যাগিং ও বুলিং বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং ক্যাম্পাসে সচেতনতামূলক পোস্টার লাগানো হয়েছে। সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্কের ঐতিহ্য বজায় রাখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অপদস্থ করা বা শারীরিকভাবে হেনস্তা করার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।










