ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল। বিক্ষোভের একপর্যায়ে পুলিশের একটি ভ্যানে আগুন দেওয়া হয় এবং পুলিশের গাড়িসহ শতাধিক যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ, শফিপুর ও চন্দ্রা এবং গাজীপুর মহানগরের ভোগড়া বাইপাস, কোনাবাড়ী ও সালনাসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকেরা বিক্ষোভে নামেন। সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবরোধ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা সড়কে ঝুট কাপড়, বাঁশ ও কাঠ জড়ো করে আগুন ধরিয়ে দিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে মহানগরের নাওজোর এলাকায় পুলিশের একটি ভ্যানে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশের দুটি গাড়িসহ শতাধিক যানবাহন ভাঙচুরের পাশাপাশি কালিয়াকৈর এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যানে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, শিল্প পুলিশ, জেলা পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেন। পাশাপাশি লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকারীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শিল্পাঞ্চল-২ (গাজীপুর) পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন জানান, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় শিল্প পুলিশ, মহানগর পুলিশ ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে এবং আরও গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা রয়েছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। সোমবারের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজবে কান না দিতে শ্রমিক ও নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে রোববারও মাওচাক, শফিপুর, চন্দ্রা ও পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গাজীপুরে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের পাশাপাশি ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন।










