ফুটবল মাঠে নজিরবিহীন সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্বরেকর্ড গড়েছে ব্রাজিল। দেশটির অনূর্ধ্ব-২০ রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপে উবেরলান্দিয়া ও মামোরের মধ্যকার ম্যাচে মোট ৫৩ জনকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ২০১১ সালে আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলে এক ম্যাচে ৩৬টি লাল কার্ড দেখানোর রেকর্ড ভেঙে গেছে। ইয়াহু স্পোর্টসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মিনাস জেরাইস ফুটবল ফেডারেশনের প্রকাশিত রেফারির ম্যাচ রিপোর্ট অনুযায়ী, ম্যাচটিতে মামোরে ৩-১ গোলে জয় পায়। তবে খেলার শেষ মুহূর্তে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। যোগ করা সময়ের নবম মিনিটে গোল উদযাপনকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোল উদযাপনের সময় মামোরের এক খেলোয়াড় প্রতিপক্ষের বেঞ্চের দিকে উসকানিমূলক অঙ্গভঙ্গি করেন। এর জেরে উবেরলান্দিয়ার এক কোচিং স্টাফ মাঠে ঢুকে তাঁকে ধাক্কা দেন। এরপর দ্রুত দুই দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। মাঠে কিল-ঘুষি ও লাথি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে, আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
ম্যাচের রেফারি ফার্নান্দো পাত্রিক মোদেস্তো তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে উপস্থিত সবাইকে লাল কার্ড দেখাতে পারেননি। পরে তাঁর আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে উবেরলান্দিয়ার ২৪ জন এবং মামোরের ২৯ জনকে বহিষ্কারের কথা উল্লেখ করা হয়। বহিষ্কৃতদের মধ্যে ৪৩ জন খেলোয়াড়, আটজন কোচিং স্টাফ এবং দুইজন ক্লাব কর্মকর্তা রয়েছেন।
এর আগেও ম্যাচটিতে উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। ৫২ মিনিটে উবেরলান্দিয়ার এক খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখার পর ক্লাবটির তিন কর্মকর্তা মাঠে ঢুকে রেফারিকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে খেলা প্রায় ৪০ মিনিট বন্ধ থাকে। পরবর্তী সময়ে মাঠ ও ড্রেসিংরুম এলাকায়ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে এবং মামলা দায়ের করা হয়।
২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আর্জেন্টিনার পঞ্চম বিভাগের অ্যাতলেটিকো ক্লায়পোলে ও ভিক্তোরিয়ানো আরেনাসের ম্যাচে সংঘর্ষের পর ৩৬ জনকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে সেটিই ছিল এক ম্যাচে সর্বোচ্চ লাল কার্ডের নজির।










