দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে বাংলাদেশে হেপাটাইটিস এ ও ই ভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য অসতর্কতার কারণেই জন্ডিসসহ গুরুতর লিভারের জটিলতায় আক্রান্ত হতে পারেন অনেকেই। দেশে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জন্ডিস রোগীদের একটি বড় অংশ পানিবাহিত হেপাটাইটিস ই ভাইরাসে আক্রান্ত, পাশাপাশি হেপাটাইটিস এ-ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ঘটায়।
পরিপাকতন্ত্র ও লিভার বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা ও গ্রীষ্ম মৌসুমে এই সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। জলাবদ্ধতার সময় অনেক এলাকায় পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ও পানির পাইপলাইনের সংযোগস্থলে দূষণের ঝুঁকি তৈরি হয়। ফলে রান্না, পান করা কিংবা দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত পানির মাধ্যমে ভাইরাস সহজেই ছড়িয়ে পড়ে।
এ ছাড়া রাস্তার খোলা শরবত, আখের রস, লেবুর শরবত, বরফ মেশানো পানীয় এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার থেকেও সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়ে। অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি না মানাও হেপাটাইটিস ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ।
চিকিৎসকদের মতে, অনেকেই হেপাটাইটিস এ ও ই-কে সাধারণ জন্ডিস ভেবে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস ই মারাত্মক লিভার জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।
সংক্রমণ প্রতিরোধে বিশুদ্ধ পানি পান করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বাইরে গেলে নিজস্ব নিরাপদ পানি বহন করা, বাসায় পানি ফুটিয়ে ব্যবহার করা এবং বর্ষাকালে ফলমূল ও শাকসবজি পরিষ্কার পানিতে ধোয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাস্তার খোলা পানীয় ও অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া শিশুদের ছোটবেলা থেকেই খাবার গ্রহণের আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নত করা গেলে হেপাটাইটিস এ ও ই সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

