২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করে আর্জেন্টিনা। এই পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়লেও তা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করেছেন আলবিসেলেস্তে দলের ডিফেন্ডার ফাকুন্দো মেদিনা। মাঠের এই হারকে খেলারই স্বাভাবিক অংশ হিসেবে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
অলিম্পিক মার্শেইয়ের এই সেন্টার ব্যাক ইন্টারনেট ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিত্তিহীন গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সমর্থকদের প্রতি অনুরোধ জানান। পাশাপাশি সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে হালকা মেজাজে জানান, তার নিজের মা যখন এমন গুজবে বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন, তখন তিনি কীভাবে তাকে থামিয়েছিলেন।
একটি জনপ্রিয় ইউটিউব শোতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক যখন এসব ষড়যন্ত্রের গল্প নিয়ে তাকে প্রশ্ন করেন, তখন মেদিনা মায়ের সঙ্গে হওয়া কথোপকথনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, তিনি সরাসরি মাকে বলেছিলেন এসব ফালতু কথায় কান না দিতে এবং এই বিষয়ে আর কোনো আলোচনা না করতে।
মেদিনা স্পষ্ট করে জানান, আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে এমন কোনো রহস্যজনক বা অস্বাভাবিক কিছুই ঘটেনি। যা ঘটেছে, তা কেবল মাঠের ফুটবলীয় ফলাফল হিসেবেই ঘটেছে। এর আগে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, দলের প্রধান কোচ এবং সহকারী কোচও একই বক্তব্য দিয়েছিলেন, যাদের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন এই ডিফেন্ডারও।
সামাজিক মাধ্যমের কল্পিত গল্প নিয়ে নিজের বিরক্তি গোপন করেননি সাবেক এই রিভার প্লেট ফুটবলার। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গুজব ছড়ানো মানুষদের তিনি সরাসরি প্রশ্ন করেছিলেন, দলটি মাঠে গিয়ে আসলে কী করতে চেয়েছিল বলে তারা মনে করেন। তার ভাষায়, দলের সবাই অন্য যে কোনো দলের মতোই জয়ের জন্য মাঠে নেমেছিল এবং জিতলে তিনি নিজেই সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হতেন, কিন্তু পরাজয়ও মেনে নিতে হবে।
বিশ্বকাপ শেষে দেশে ফেরার পর মেদিনা নিজের বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে প্রতিবেশীদের উদ্দেশ্যেও একই বার্তা দিয়েছিলেন। তিনি অনুরোধ করেন যেন কেউ ইন্টারনেটের ভিত্তিহীন গুজবে বিশ্বাস না করেন, কারণ ছবি ও ভিডিওতে সবাই দেখেছেন দলটি সবসময় একটি চমৎকার পরিবারের মতো একসঙ্গে ছিল। হারের কষ্ট থেকেই কিছু সতীর্থ হয়তো প্রকাশ্যে আসতে পারেননি, তবে দলের সবাই সত্যিকার অর্থে বিষণ্ণ ও মন খারাপ করে ছিলেন বলে জানান তিনি। তবে সেই সঙ্গে এটাও স্মরণ করিয়ে দেন, শেষ পর্যন্ত এটি কেবলই একটি ফুটবল ম্যাচ, আর জীবনে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় রয়েছে।
সবশেষে মেদিনা মন্তব্য করেন, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মধ্যকার গভীর আন্তরিক বন্ধনই তাদের দলের মূল শক্তি। কঠিন মুহূর্তেও এই একতাই পুরো দলকে ধরে রাখে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, চারপাশে এমন সব সতীর্থ থাকলে, যারা শুধু দুর্দান্ত খেলোয়াড়ই নন বরং মানুষ হিসেবেও অসাধারণ, তখন তাদের জন্য মাঠে নিজের সেরাটা উজাড় করে না দিয়ে কোনো উপায় থাকে না।

