সঠিক সময়ে দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলতে পারাটা একজন মানুষের ব্যক্তিত্বের অন্যতম বড় শক্তি। অথচ আমাদের সমাজে এই গুণটি চর্চা করার শিক্ষা তেমন দেওয়া হয় না। বরং সবকিছুতে মানিয়ে নেওয়া বা প্রতিটি অনুরোধে ‘হ্যাঁ’ বলাকেই আমরা ভদ্রতা বলে ধরে নিই। কিন্তু বাস্তবে, নিজের রুচিবোধ ও স্বাচ্ছন্দ্যের বিপরীতে যাওয়া যেকোনো আচরণকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করতে পারাই জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
সন্তানের নিরাপত্তার প্রশ্নে সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। এখানে প্রথম দায়িত্বটা নিতে হয় অভিভাবককেই—তাঁকে বুঝতে হবে যে পরিচিত-অপরিচিত যেকোনো মানুষের কাছ থেকেই সন্তান অসম্মানজনক আচরণের শিকার হতে পারে। তাই সন্তানের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে, তার কথায় বিশ্বাস রাখতে হবে এবং কোনো স্পর্শে সন্তান অস্বস্তি বোধ করলে সেখানে স্পষ্টভাবে ‘না’ বলার অধিকার আছে—এই বোধ তার মধ্যে গড়ে তুলতে হবে।
দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট বিষয়েও ‘না’ বলার চর্চা প্রয়োজন। যেমন কেউ যদি লো-কার্ব ডায়েট করেন, অথচ পরিবারের কেউ বারবার তার পাতে বাড়তি ভাত তুলে দেন, তাহলে বিনয়ের সঙ্গে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানানো উচিত। ঘরে যা বলতে পারা যায় না, বাইরে সেটা বলা আরও কঠিন হয়ে পড়ে—তাই পরিবারের গণ্ডি থেকেই এই অভ্যাস শুরু করা জরুরি।
সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ‘না’ বলতে পারা সমান গুরুত্বপূর্ণ। সম্পর্কের শুরুতে একধরনের মোহ কাজ করে, মনে হয় এই বন্ধন চিরস্থায়ী। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুজনের মধ্যেকার বিরক্তিকর দিকগুলো প্রকাশ পেতে শুরু করে। তখন নিজের মতামত প্রকাশ করা, নিজের অনুভূতি জানানো এবং প্রয়োজনে দ্বিমত পোষণ করার অধিকারটুকু নিজেকেই বুঝে নিতে হয়। এমনকি ঘনিষ্ঠতার ক্ষেত্রেও নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছার কথা খোলাখুলি জানানোয় কোনো ভুল নেই।
কর্মক্ষেত্রেও অনেকে চাকরি হারানোর ভয়ে অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ করতে পারেন না, বিশেষত এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার নারীরাই বেশি হয়ে থাকেন। তবে পরিস্থিতি যদি সমঝোতার সীমা ছাড়িয়ে যায়, তাহলে প্রতিবাদ করাটা অপরিহার্য হয়ে ওঠে।
শারীরিক গঠন নিয়ে কটূক্তিও একটি নিত্যদিনের সমস্যা। ওজন, উচ্চতা বা গায়ের রং নিয়ে ঘন ঘন মন্তব্য বা প্রকাশ্যে হাসিঠাট্টা করা অবশ্যই অপমানজনক। এমন পরিস্থিতিতে স্পষ্টভাবে নিজের অনাগ্রহের কথা জানিয়ে একটি সুস্পষ্ট সীমারেখা টেনে দেওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে, নিজের অধিকার ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া শেখাটাই সবচেয়ে জরুরি। অন্যায় বা অস্বস্তিকর আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি পরিস্থিতি বুঝে কখনো কখনো নিজেকে রক্ষা করার কৌশল বেছে নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

