ইন্দোনেশিয়ার মাদুরা দ্বীপের কাছে সমুদ্রপথে চলাচলকারী একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪১ জন। ফেরিটির নাম মুতিয়ারা সেন্তোসা ২, যা সাপুদি দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি এলাকায় আগুনের কবলে পড়ে।
রোববার দেশটির জাতীয় তল্লাশি ও উদ্ধার সংস্থা এক বিবৃতিতে জানায়, ফেরিটিতে মোট ২৭১ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্য ছিলেন। এদের মধ্যে ২২৫ জনকে ইতিমধ্যে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত জাহাজে প্রায় চল্লিশ জন আটকে ছিলেন বলে জানা যায়, যাদের ধাপে ধাপে উদ্ধারকারী জাহাজে স্থানান্তর করা হচ্ছিল।
পূর্ব জাভা প্রদেশের সুরাবায়া বন্দর থেকে দক্ষিণ সুলাওয়েসির মাকাসারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল ফেরিটি। রোববার সকালে মাদুরা দ্বীপের কাছাকাছি এলাকায় হঠাৎ আগুন ধরে যায়। জাহাজ থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উদগীরণ হতে দেখা যায়, যা বিশাল আকারের উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় জটিলতা তৈরি করে। আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি।
সুরাবায়া তল্লাশি ও উদ্ধার কার্যালয়ের প্রধান জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী জাহাজে ২৫০ জনের মতো মানুষ ছিলেন এবং সাপুদি দ্বীপপুঞ্জের উত্তরে জাহাজে আগুন লাগে। পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাশহুদ বলেন, মাঠপর্যায় থেকে পাওয়া প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী যাত্রীরা ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা বিভিন্ন জাহাজের মাধ্যমে উদ্ধারের অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি আরও বলেন, যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের নিরাপত্তাই তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং উদ্ধার প্রক্রিয়া দ্রুত, নিরাপদ ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে ক্রমাগত সমন্বয় করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মাদুরা দ্বীপ জাভা দ্বীপের উত্তর-পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি অবস্থিত এবং এই নৌপথে নিয়মিত ফেরি চলাচল করে থাকে। প্রায় সতেরো হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ায় ফেরি যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম, তবে দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার কারণে দেশটিতে মাঝেমধ্যেই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। বর্তমানে নিখোঁজদের সন্ধানে বহুমুখী উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির সবশেষ তথ্য জানানোর চেষ্টা করছে।
