জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবির এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির ঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ক্যাম্পাসের ভেতরে সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল এবং সংগঠনভিত্তিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বৈধ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) ছাড়া কাউকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে সংঘর্ষ ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন প্রবেশপথে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চোখে পড়ে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী এবং প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। ক্যাম্পাসে প্রবেশের আগে প্রতিটি শিক্ষার্থীর পরিচয়পত্র যাচাই করা হচ্ছে এবং বৈধ পরিচয়পত্র প্রদর্শন করতে না পারলে কাউকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।
কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদেরও অবস্থান নিতে দেখা গেছে। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শহীদ মিনার, ভাষাশহীদ রফিক ভবন, অবকাশ ভবন এবং ভাস্কর্য চত্বরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা অবকাশ ভবনে অবস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) কক্ষে অবস্থান করছেন।
এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) প্রতিনিধিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইস উদদীনের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য প্রশাসনিক ভবনে অপেক্ষা করছেন বলে জানা গেছে। তবে সাক্ষাতের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত বা বৈঠকের ফলাফল জানানো হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো ধরনের গুজব বা উসকানিমূলক তথ্য প্রচার না করে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ করা হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন, প্রক্টরিয়াল বডি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।










