বাবা হোর্হে মেসিকে শেষ বিদায় জানাতে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে পৌঁছেছেন বিশ্বখ্যাত ফুটবলার লিওনেল মেসি। স্থানীয় সময় শনিবার (৮ আগস্ট) রাত ৮টা ৪০ মিনিটে রোজারিওতে পৌঁছান আর্জেন্টাইন তারকা। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও সন্তানরা।
বিমানবন্দর থেকে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে একটি ভ্যানে করে রোজারিও ত্যাগ করেন মেসি। বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। রোজারিওর কাছের শহর পেরেজে হোর্হে মেসির মরদেহ সমাহিত করার কথা রয়েছে।
এর আগে স্থানীয় সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে মারা যান হোর্হে মেসি। মৃত্যুর কারণ বা পরিস্থিতি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬৮ বছর বয়সী হোর্হে মেসি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন।
মেসির ফুটবল ক্যারিয়ারে তার বাবা হোর্হে মেসির ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলা থেকেই ছেলের ফুটবল ক্যারিয়ার গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি পাশে ছিলেন। পরবর্তীতে মেসির এজেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন হোর্হে। ছেলের পেশাগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও ক্যারিয়ারের বিভিন্ন পর্যায়ে তার বাবার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়েই হোর্হে মেসির শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর তার মৃত্যুতে মেসির পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক।
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, হোর্হে মেসির শেষকৃত্য একান্ত পারিবারিক পরিসরে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিত থাকার কথা। তবে প্রিয় তারকার বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে এরই মধ্যে কবরস্থানের প্রবেশপথে ভিড় করেছেন মেসির অসংখ্য ভক্ত।
মেসির কঠিন সময়ে তার পাশে থাকতে চান ভক্তরাও। বিশেষ করে মা সেলিয়ার পাশে থাকার জন্য মেসি দেশে ফিরেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে বাবার মৃত্যুর কারণে মেসিকে ইন্টার মায়ামির গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। লিগস কাপের গ্রুপ পর্বে রোববার মন্টেরির বিপক্ষে ম্যাচে মেসির শুরুর একাদশে থাকার কথা ছিল। তবে পারিবারিক শোকের কারণে ম্যাচটিতে তার না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পর মেসির মায়ামিতে ফেরার কথা থাকলেও তাকে দ্রুত মাঠে ফেরানোর কোনো চাপ দেওয়া হচ্ছে না। বাবাকে হারানোর এই কঠিন সময়ে পরিবারের সঙ্গে থাকার সুযোগই পাচ্ছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।









