নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় প্রায় নিশ্চিত হওয়ায় এবারের নির্বাচন ঘিরে তেমন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটি অনেকটাই আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে।
মির্জা ফখরুলের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের প্রার্থী অলি আহমদ। সংসদ সদস্যদের ভোটে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
আজ দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ চলবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বও পালন করছেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ শেষে আজই ফলাফল ঘোষণা করা হবে এবং সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হবে।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিতে পারেন না। এ ছাড়া উন্মুক্ত ভোটিং পদ্ধতি এবং সংসদে ক্ষমতাসীন দলের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে মির্জা ফখরুলের বিজয়কে অনেকটাই নিশ্চিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোট দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে বিএনপির ২৪৭ জন এবং বিরোধী জোটের ৯০ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। অন্যরা বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র সদস্য।
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়। এরপর নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রতিটি সংসদ সদস্যের একটি করে ভোট থাকবে। ভোটের সংখ্যা সমান হলে লটারির মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণের বিধান রয়েছে।
বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন সাধারণত সংসদ সদস্যদের ভোটেই অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯৬ সালের পর থেকে বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এবারও দুই প্রার্থী থাকলেও সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা খুব কম।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া মন্ত্রী, বিচারক, নির্বাচন কমিশনারসহ সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক ভূমিকা রয়েছে।
আজকের ভোট শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। তাঁর রাষ্ট্রপতি পদে যাওয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপির বর্তমান নেতৃত্ব কাঠামোতেও নতুন সমীকরণ তৈরি হবে।










