জামালপুর শহরের একটি তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে ইসরাত জাহান (৩০) নামের এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে আটকে থাকা তার দুই শিশু সন্তানকে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী কাউসার আহম্মেদ শাওন পলাতক রয়েছেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে শহরের শেখের ভিটা রেলক্রসিং এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে ওই ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে দুই শিশু বারবার পানি চাইছিল। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের কান্নাকাটি ও আকুতি শুনে আশপাশের লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে তারা বিষয়টি ভবনের মালিককে জানান। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ফ্ল্যাটটির মূল দরজায় বাইরে থেকে তালা ঝুলছে।
পরিস্থিতি দেখে স্থানীয়রা দ্রুত তালা ভেঙে ফ্ল্যাটের ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় একটি কক্ষে আটকে থাকা দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়। এরপর ফ্ল্যাটের অন্য একটি কক্ষে ইসরাত জাহানের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে জামালপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের ১০ বছর বয়সী মেয়ে স্নেহা ও ৫ বছর বয়সী ছেলে মমিন শাহরিয়ার বর্তমানে সুস্থ রয়েছে বলে জানা গেছে।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাৎক্ষণিকভাবে ইসরাত জাহানের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি। এটি কীভাবে ঘটেছে, তার পেছনে কোনো অপরাধমূলক ঘটনা রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্বামী কাউসার আহম্মেদ শাওন পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। একই সঙ্গে ফ্ল্যাটের দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগানো হয়েছিল কেন এবং গৃহবধূর মৃত্যুর সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঘটনার আকস্মিকতায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে জানালা দিয়ে শিশুদের পানি চাওয়ার বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসার পরই পুরো ঘটনা সামনে আসে। এখন পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের মাধ্যমে গৃহবধূর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা বের করার চেষ্টা চলছে।










