হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর সফট ওপেনিং করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে আগামী বছর ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সক্ষমতা বাড়াতে শিগগিরই বহরে ১০টি লিজকৃত উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে যোগদানের পর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব পরিকল্পনার কথা জানান নবনিযুক্ত বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
মন্ত্রী জানান, থার্ড টার্মিনালের সফট ওপেনিং আগামী ১৬ ডিসেম্বর করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। টার্মিনাল পরিচালনার বিষয়ে জাপানের একটি কোম্পানির সঙ্গে আগামী সেপ্টেম্বরে চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
থার্ড টার্মিনাল চালু হলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী ও ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে বিমানবন্দরের দীর্ঘদিনের সক্ষমতা সংকট কমানোর পাশাপাশি যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের পরিধি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
আগামী বছর ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট
নতুন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে আগামী বছর ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন বিমানমন্ত্রী। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নিয়ে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু হলে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের দীর্ঘ সময়ের ট্রানজিটের ওপর নির্ভরতা কমতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি আকাশ যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে।
তবে সরাসরি এই রুট চালুর ক্ষেত্রে উড়োজাহাজের সক্ষমতা, সংশ্লিষ্ট দেশের নিরাপত্তা ও বিমান চলাচল সংক্রান্ত অনুমোদনসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিমানের বহরে যুক্ত হবে ১০টি লিজকৃত উড়োজাহাজ
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর শক্তিশালী করতে শিগগিরই ১০টি লিজকৃত উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
তিনি বলেন, ‘বিমানের বহরে শিগগিরই ১০টি লিজকৃত বিমান যুক্ত করতে পারব বলে আশা রাখছি।’
নতুন উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত হলে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন রুট চালুর সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে দীর্ঘ দূরত্বের আন্তর্জাতিক রুটে বিমানের কার্যক্রম সম্প্রসারণে এটি ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করাকে নিজের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন নতুন বিমানমন্ত্রী। কাজের গতি বাড়াতে সপ্তাহে একদিন সিভিল অ্যাভিয়েশন বা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে অফিস করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে একদিকে শাহজালাল বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়বে, অন্যদিকে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার বহরও সম্প্রসারিত হবে। পাশাপাশি ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।










