জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই হবে তার প্রথম নিউইয়র্ক সফর এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি।
রোববার (২৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ২১ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর অথবা এর কাছাকাছি সময়ে নিউইয়র্কে অবস্থান করতে পারেন। সফরের চূড়ান্ত সময়সূচি ও অন্যান্য কর্মসূচি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে প্রস্তুতি চলছে।
সফরে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। সেখানে তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।
এবারের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ফলে একই অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির উপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে প্রবাসীদের বিভিন্ন বিষয়, বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
সফরকালে কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম নিউইয়র্ক সফর হওয়ায় এবারের সফরটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের নতুন সরকারের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের সুযোগ তৈরি হবে এই সফরের মাধ্যমে।










