দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে বাংলাদেশ সিরিজ শেষ করেছে ১-১ সমতায়। ম্যাকাই টেস্টে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরে ধবলধোলাই এড়ালেও পুরো সিরিজে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের নজর কেড়েছে। প্রতিপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশের উন্নতি ও লড়াকু মানসিকতায় সন্তুষ্ট অস্ট্রেলিয়া। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিপক্ষে আরও বেশি টেস্ট সিরিজ খেলতে চান অস্ট্রেলিয়ার উইকেটকিপার ব্যাটার অ্যালেক্স ক্যারি।
দুই ম্যাচের সিরিজের প্রথম টেস্টে ডারউইনে বাংলাদেশ অসাধারণ পারফরম্যান্স করে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে। সেই ম্যাচে বাংলাদেশের বোলার ও ব্যাটাররা স্বাগতিকদের ওপর পুরোপুরি আধিপত্য বিস্তার করেন। তবে দ্বিতীয় টেস্টে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। ম্যাকাইতে মাত্র দেড় দিনের মধ্যে বাংলাদেশকে ইনিংস ও ৫১ রানে হারিয়ে সিরিজ সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া।
ম্যাচ শেষে অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়দের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের কথাবার্তাও হয়েছে। অ্যালেক্স ক্যারি জানিয়েছেন, এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজ নিয়মিত আয়োজন করা উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে ক্যারি বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিপক্ষে আরও টেস্ট খেলার আশা করছেন তারা। বাংলাদেশের বিপক্ষে আরও বেশি সিরিজ খেলতে চান বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে ম্যাচ শেষে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাওয়াটাও তার কাছে ভালো লেগেছে বলে উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া সর্বশেষ ২০১৭ সালে বাংলাদেশে টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হয়েছিল। সেই সিরিজও ১-১ সমতায় শেষ হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ বিরতির পর আবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুই দল টেস্টে মুখোমুখি হয়।
এই দুই মাসের সময়ের মধ্যে ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট মিলিয়ে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া মোট আটটি ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ তিনটিতে জয় পেয়েছে এবং অস্ট্রেলিয়া জিতেছে পাঁচটিতে। বিশেষ করে চলতি বছরের জুনে বাংলাদেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছিল বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এবারের টেস্ট সিরিজেও বাংলাদেশের বোলাররা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। দুই টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার ৩০টি উইকেটের মধ্যে ২২টিই নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা। ডারউইনে হাসান মাহমুদ ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন। আর ম্যাকাইতে শরীফুল ইসলাম দুর্দান্ত বোলিং করে এক ইনিংসে ৭ উইকেট শিকার করেন। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের কোনো বোলারের এটিই অন্যতম সেরা বোলিং পারফরম্যান্স।
ক্যারি বাংলাদেশের প্রশংসা করে বলেন, সিরিজটি দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল। ওয়ানডে ও টেস্ট মিলিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের বেশ ভালো লড়াই হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডারউইনে যেখানে বাংলাদেশ এক ইনিংসেই ৪২৬ রান করেছিল, ম্যাকাইতে দুই ইনিংস মিলিয়ে দলটি ১৫৯ রান করতে সক্ষম হয়। অস্ট্রেলিয়ার ঘুরে দাঁড়ানোর কারণ হিসেবে ক্যারি তাদের ব্যাটিং ও বোলিংয়ের উন্নতির কথা উল্লেখ করেন।
ম্যাকাই টেস্টে হারলেও ২০২৫-২৭ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় বাংলাদেশ এখনো চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। ছয় ম্যাচে তিন জয়, দুই হার ও এক ড্রয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৪০ এবং সফলতার হার ৫৫.৫৬ শতাংশ।
সব মিলিয়ে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে বাংলাদেশের ১-১ সমতা শুধু একটি সিরিজ ড্র নয়; এটি দীর্ঘ বিরতির পর শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বাংলাদেশের উন্নত প্রতিদ্বন্দ্বিতারও ইঙ্গিত দিয়েছে। অ্যালেক্স ক্যারির মন্তব্যে সেই সম্মানই আরও স্পষ্ট হয়েছে।










