দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, গত ১৭ বছর দেশে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের একটি ধারা তৈরি হয়েছিল। জনগণ এখন তাদের নির্বাচিত করেছে এবং তারা দায়িত্ব নিয়ে দেশ পরিচালনা করছেন। তাই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে ফেনীর পরশুরামের ঘাটঘর এলাকায় মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘এ মুহূর্তে জিরো টলারেন্সে চলে যাব—এ কথা বলব না। তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও চ্যালেঞ্জ থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা এই চ্যালেঞ্জ হাতে নিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, বৃহত্তর নোয়াখালীর সন্তান হিসেবে এ অঞ্চলের প্রকল্পসহ দেশের সব উন্নয়ন প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা তার দায়িত্ব। কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রভাব, অনিয়ম বা দুর্নীতির কারণে যেন সরকারি প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক থাকবে। উন্নয়নকাজে জনগণের অর্থের সর্বোচ্চ সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
ভারতের পানি আগ্রাসন প্রসঙ্গে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী ও বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ইতিবাচক হওয়া প্রয়োজন। ভারতেরও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভারত বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থের প্রতি সর্বোচ্চ সজাগ থাকবে এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে।
মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হলে ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তবে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন নেই। পরবর্তী পর্যায়ে প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ দিয়েই কাজ করা হবে।
তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, বাঁধ ভেঙে যাওয়া এবং বন্যার ক্ষয়ক্ষতি থেকে বৃহত্তর এলাকার মানুষ সুরক্ষা পাবেন। কৃষি, সেচ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, আগামী মাসের যেকোনো সময় অথবা মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী ফেনীতে এসে প্রকল্পটির কাজ উদ্বোধন করবেন। এ সময় তিনি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন এবং প্রকল্পের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত হবেন। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী।
এর আগে গত ১৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে এখনো প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়নি।
প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন, ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন এবং ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে।
পরবর্তী পর্যায়ে মুহুরী ও কহুয়া নদীতে নতুন বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সিলোনিয়া নদীতে বাঁধ নির্মাণ, নদী খনন ও সংস্কারের পরিকল্পনাও রয়েছে।
পরিদর্শনকালে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এমএ খালেক, জেলা প্রশাসক মনিরা হক, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফেনী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলালসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।










