চট্টগ্রাম নগরের ব্যবসায়ী আফতাব হোসেন তাহসিন হত্যা মামলায় আলোচিত আসামি মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা সাত্তার তাহসিন হত্যা মামলায় ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার দেখানোর এ আদেশ দেন।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী জানান, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানায় মোট সাতটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় পর্যায়ক্রমে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।
আদালত সূত্র ও মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর বিকেলে চান্দগাঁও থানার শমসের পাড়া এলাকায় গুলিতে নিহত হন ইট-বালুর ব্যবসায়ী আফতাব হোসেন তাহসিন। ব্যবসার কাজে আনা বালু ও ইট তিনি উদুপাড়া এলাকায় মজুত করতেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ওই এলাকায় একটি ট্রাক বালু নিয়ে এলে তাহসিন সেখানে যান। কিছুক্ষণ পর সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন তার সহযোগীদের নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে করে ঘটনাস্থলে আসে। পরে তাহসিনকে গুলি করে তারা সেখান থেকে চলে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহত তাহসিনের বাবা মো. মুসা বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় সাজ্জাদ হোসেন, মোবারক হোসেন ইমনসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। মামলার অভিযোগে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাজ্জাদ ও তার সহযোগীদের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই মামলাতেই মঙ্গলবার ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত।
এর আগে গত কয়েক সপ্তাহে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় দায়ের করা মামলায় ডেভিড ইমনকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ২৯ জুলাই ভোরে নড়াইল-যশোর সড়কের ঝুমঝুম এলাকায় একটি গাড়ি থেকে তিন সহযোগীসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
পরে ২ আগস্ট ফটিকছড়ি থানার একটি হত্যা মামলায় পাঁচ দিন এবং একটি অস্ত্র মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। ১২ আগস্ট হাটহাজারী থানার একটি চাঁদাবাজির মামলাতেও তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
পুলিশের দাবি, বিভিন্ন মামলার তদন্তে ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ ও তথ্য পাওয়া গেছে। তবে রিমান্ডে পুলিশ যে তথ্য পেয়েছে বলে দাবি করছে, সেগুলো আদালতে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচিত নয়। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা ও প্রমাণের ভিত্তিতেই আদালতে বিষয়গুলো নির্ধারিত হবে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে জোড়া খুনসহ অন্তত ১৮টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকায় জোড়া খুন এবং একই বছরের ২৩ মে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যার মামলাও রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ আরও দাবি করেছে, ইমন চট্টগ্রামের একটি অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের হয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগের সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তাহসিন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য মামলাতেও পর্যায়ক্রমে একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। ফলে আগামী দিনগুলোতে তাকে আরও কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন আদালতে উঠতে পারে।










