ফরিদপুরের সালথায় জমিজমা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় মো. আমিন খন্দকার (৪৫) নামে কৃষক লীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চান্দাখোলা মোন্তারমোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আমিন খন্দকার সোনাপুর ইউনিয়নের চান্দাখোলা গ্রামের মৃত ভিকু খন্দকারের ছেলে। তিনি সালথা উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষক লীগের এই নেতা গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দিয়ে সব ধরনের রাজনীতি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার বড় বাংরাইল এলাকার মনির বিশ্বাস ও মিশরু মিয়ার মধ্যে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার বিকেলে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষের সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। উভয় পক্ষের মোট আটটি বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালায়। সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আমিন খন্দকারকে আসামি করা হয়েছে।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান জানান, মঙ্গলবার সোনাপুর ইউনিয়নের বড় বাংরাইল গ্রামে জমিজমা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলার আসামি আমিন খন্দকার। বুধবার সকালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংঘর্ষে কারা কীভাবে জড়িত ছিলেন এবং ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
জমিজমা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা যাতে না ছড়ায়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে পুলিশ। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।










