জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পাঁচ দিন পর ফরিদ হোসেন নামে এক চালকের কঙ্কাল আখখেত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি সাগর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব ও পুলিশ।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে ক্ষেতলালের হোপীরহাট গ্রামের বাড়ি থেকে ইজিবাইক নিয়ে বের হন ফরিদ। এরপর থেকে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন তার বাবা আব্দুল কুদ্দুস থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
জিডির সূত্র ধরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ২৪ আগস্ট সদর উপজেলার পাকার মাথা এলাকার একটি গ্যারেজ থেকে ফরিদের ইজিবাইক উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় রবিউল ও জাকির হোসেন নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন ফরিদের বাবা বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় সাগর হোসেনকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও তিন-চারজনকে আসামি করা হয়।
এরপর ২৫ আগস্ট জিতারপুর মোড়ের একটি আখখেত থেকে কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। শিয়াল মানুষের হাড়গোড় সড়কের দিকে টেনে আনলে স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে আখখেতের ভেতরে গিয়ে কঙ্কালটি দেখতে পান তারা।
খবর পেয়ে ফরিদের স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কঙ্কালের সঙ্গে থাকা পোশাক দেখে তাকে শনাক্ত করেন। জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে কঙ্কালটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে ওই রাতেই দাফন করা হয়।
এদিকে, নিখোঁজের মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে মরদেহ কঙ্কালে পরিণত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, ফরিদকে হত্যার পর দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে মরদেহের অধিকাংশ অংশ নষ্ট করা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মামলার প্রধান আসামি সাগর হোসেনকে ২৬ আগস্ট নওগাঁর আত্রাই রেলস্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ফরিদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।










