হিমালয় সীমান্ত অঞ্চলে বরফধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় নেপাল ও তিব্বতে প্রাণহানি ও নিখোঁজের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এখন পর্যন্ত দুই অঞ্চলে অন্তত ১৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসাবশেষ, কাদা ও পলিমাটির নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
দুর্যোগের ভয়াবহতা তুলে ধরে রাসুয়ার প্রধান কাস্টমস কর্মকর্তা রাজেন্দ্র ঢুঙ্গানা জানান, হঠাৎ মাটি কেঁপে ওঠার পর তিনি প্রায় ১০০ মিটার উঁচু পানির ঢেউ দেখতে পান। একই সঙ্গে ধোঁয়ার মতো একটি মেঘ ওপর থেকে নেমে আসতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই তিমুরে বাজার পানির স্রোতে বিধ্বস্ত হয়। কাস্টমস পয়েন্টে থাকা ৩০০টির বেশি যানবাহনও ভেসে যায়। প্রাণ বাঁচাতে অনেক মানুষ জঙ্গল ও উঁচু পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নেন।
ত্রিশূলি বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, তিব্বত অংশে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর নিরাপদ স্থানে যাওয়ার সুযোগও পাননি তিনি। তার চোখের সামনেই স্ত্রী ও ১৮ বছর বয়সী সন্তান প্রবল পানির স্রোতে ভেসে যায়। পরে তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, ওই এলাকায় তখন বৃষ্টিও হচ্ছিল না। লেন্দে নদীতে হিমবাহ ধসে পানি আটকে যাওয়ার পর হঠাৎ সেই পানি ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত নেমে আসে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বিস্তীর্ণ এলাকা কাদা ও পলিমাটির নিচে চাপা পড়ে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৩০০ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই কৈলাস-মানসসরোবর তীর্থযাত্রী ছিলেন। অন্যদিকে চীনের তিব্বতের জিরোং কাউন্টিতে ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক।
দুর্যোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তাও শুরু হয়েছে। ভারত ১০ টন জরুরি ত্রাণ পাঠিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ৫ লাখ ডলার সহায়তা এবং বিশেষজ্ঞ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। রেড ক্রস ১৪ লাখ ডলার সহায়তা দিচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও জরুরি সহায়তা পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
নিখোঁজদের সন্ধানে নেপাল ও তিব্বতের দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপ, প্রবল স্রোত ও দুর্গম ভূখণ্ডের কারণে উদ্ধারকাজে নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে।










