গাজীপুরের করমতলা এলাকায় বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে এপিএস-নিজ কম্পোজিট লিমিটেডের শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করে বিক্ষোভ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল থেকে কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। বকেয়া বেতন পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত কাজে ফিরবেন না বলেও জানিয়েছেন শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের অভিযোগ, তাদের তিন মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। শ্রমিকরা বলেন, নিয়মিত কাজ করেও সময়মতো পারিশ্রমিক না পাওয়ায় সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই বকেয়া বেতন পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত তারা কর্মস্থল ছাড়বেন না এবং বাড়িতেও ফিরবেন না।
তবে শ্রমিকদের দাবির সঙ্গে কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। এপিএস-নিজ কম্পোজিট লিমিটেডের অ্যাডমিন কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন দাবি করেছেন, শ্রমিকদের তিন মাস নয়, এক মাসের বেতন পাওনা রয়েছে। ফলে প্রকৃতপক্ষে কত মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।
শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মবিরতির একপর্যায়ে কারখানার বিদ্যুৎ বা পাওয়ার বন্ধ হয়ে গেলে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। শ্রমিকরা দাবি করেছেন, তাদের পক্ষ থেকে কোনো অ্যাডমিন কর্মকর্তার ওপর হামলা করা হয়নি। বরং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের হামলার কারণেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। আহত কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যদিকে অ্যাডমিন কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন দাবি করেছেন, সংঘর্ষের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের ইডি শাকিল আহমেদ গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তার একটি হাত ভেঙে গেছে। তবে শ্রমিকরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
কারখানার শ্রমিক রুবেল, সুমন, জাকির, রোজিনা ও শারমিনসহ কয়েকজন বলেন, তিন মাসের বেতন বকেয়া থাকায় তারা পরিবার নিয়ে দুর্ভোগে রয়েছেন। তাদের দাবি, দ্রুত হিসাব যাচাই করে প্রকৃত পাওনা নির্ধারণ করে বকেয়া বেতন পরিশোধ করতে হবে।
ঘটনার খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। শিল্প পুলিশের এসআই সাইফুল জানান, বিষয়টি তারা শুনেছেন এবং ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে কারখানার বাইরে অবস্থান নিয়ে শ্রমিকদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, কর্তৃপক্ষের হিসাব-নিকাশ যাচাই করে প্রকৃত বকেয়া নির্ধারণ করা হোক এবং শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা দ্রুত বুঝিয়ে দেওয়া হোক। তাদের মতে, কোন পক্ষের দাবি সঠিক তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করলেই বিরোধের সমাধান সম্ভব।
শ্রমিকরা আরও বলেন, বেতন নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য না দিয়ে কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের উচিত দ্রুত হিসাব যাচাই করে সঠিক তথ্য প্রকাশ করা। এরপর শ্রমিকদের প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করা হলে চলমান সংকটের অবসান হবে এবং তারা স্বাভাবিকভাবে কাজে ফিরতে পারবেন।










