শুধু সরকারি অর্থায়নের ওপর নির্ভর করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। গবেষণা ও শিক্ষার মান উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী (অ্যালামনাই) এবং শিল্পখাতের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৬২ জন শিক্ষক ও গবেষককে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন উপাচার্য।
অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক ও গবেষণানির্ভর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান আরও উন্নত করতে শিক্ষক ও গবেষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে ২০ বছর মেয়াদি একটি একাডেমিক ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলছে। গবেষণার জন্য এক হাজার কোটি টাকা এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আরও এক হাজার কোটি টাকার ফান্ড গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এই অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সম্পর্ক জোরদার এবং অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান উপাচার্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতিমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ শিক্ষা ও গবেষণা প্রকল্প গ্রহণের কথাও তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি ‘ল্যাব টু ল্যাব’ এবং ‘রিসার্চার টু রিসার্চার’ কার্যক্রমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম শিক্ষক ও গবেষকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি ও দৃশ্যমানতা বাড়াতে গবেষণার মান এবং পরিধি আরও সম্প্রসারণ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে গুগল স্কলারে দুই হাজার বা তার বেশি উদ্ধৃতি পাওয়া ৬২ জন শিক্ষক ও গবেষককে সম্মাননা দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউট ও সেন্টারের পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-গবেষকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।










