২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদারকে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর দুই দিন পর টেলিভিশনে টিপু ও কবির নামে দুজনের ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হওয়ার খবর দেখেন সেলিনা বেগম। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি এসব তথ্য জানান।
বরিশালে ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ক্রসফায়ারে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন সেলিনা বেগম। তিনি জানান, নিহত টিপু হাওলাদার তার ভাগনির স্বামী। ২০১১ সালে তাদের বিয়ে হয় এবং তাদের দুই সন্তান রয়েছে।
সাক্ষীর বক্তব্য অনুযায়ী, টিপু বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি সেলিনা বেগমের কেরানীগঞ্জের ঘাটারচরের বাসায় যান। দুই দিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে কয়েকজন ব্যক্তি ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সেখানে আসেন। তাদের মধ্যে বরিশাল থেকে আসা লোকজনের পাশাপাশি ঢাকার কয়েকজনও ছিলেন বলে তারা জানান।
সেলিনা বেগম বলেন, ওই ব্যক্তিরা টিপুকে ঘুম থেকে উঠিয়ে বাসা থেকে নিয়ে যান। এ সময় তিনি চিৎকার করলে পাশের বাসার নাহার বেগম নামে এক প্রতিবেশী সেখানে আসেন। পরে দুজন মিলে টিপুকে যে জায়গায় গাড়িতে তোলা হয়েছিল, সেখান পর্যন্ত যান। সেদিন রাতেই তিনি ফোন করে নিজের ভাগনিকে টিপুকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানান।
এরপর ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে টেলিভিশনে টিপু ও কবির নামে দুজনের ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার খবর দেখতে পান সেলিনা। তার ভাগনির কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, অন্য থানার দুই পুলিশ সদস্য টিপুকে ক্রসফায়ারে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মামলায় মোট চারজন আসামি রয়েছেন। তাদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহ বর্তমানে পলাতক। অন্যদিকে সাবেক এএসআই মাহাবুল ও জসিম কারাগারে রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া এই সাক্ষ্য ২০১৫ সালের ঘটনাটি নিয়ে চলমান মামলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।










