পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার রামপুরহাটের কুসুম্বা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে বৃষ্টি মুখোপাধ্যায় নামে এক যুবতীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাতো ভাই নীহাররঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির দোতলার একটি ঘর থেকে বৃষ্টির মরদেহ দেখতে পান। পরে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রামপুরহাট গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৯টার দিকে বাড়ির দোতলার একটি ঘরে বৃষ্টিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান স্বজনেরা। ঘরের সিলিং ফ্যানে সাদা রঙের একটি ধুতি বাঁধা ছিল এবং সেটির সঙ্গে ফাঁস লাগানো অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়।
পুলিশ এ ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখতে পরিবারের সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
বৃষ্টি মুখোপাধ্যায় বোলপুর হাই স্কুলে করণিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে ২০২৩ সালের মার্চে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে তার চাকরি বাতিল হয়ে যায়।
সে সময় বৃষ্টির বাবা নীহাররঞ্জন মুখোপাধ্যায় মেয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে দাবি করেছিলেন, বৃষ্টি পড়াশোনায় ভালো ছিলেন এবং নিজের যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছিলেন। চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি কোনো ধরনের তদবির বা প্রভাব খাটাননি বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।
পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের বরাতে জানা যায়, চাকরি হারানোর পর থেকে বৃষ্টি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। এর মধ্যে সম্প্রতি তার বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও শুরু হয়। চাকরি হারানো এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা টানাপড়েন তার ওপর মানসিক চাপ তৈরি করেছিল বলে পরিবারের সদস্যদের দাবি।
পরিবারের এক সদস্য জানান, গত চার-পাঁচ বছর ধরে বৃষ্টি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। এ জন্য তার চিকিৎসাও চলছিল এবং তিনি নিয়মিত ওষুধ সেবন করতেন।
তবে মৃত্যুর পেছনে ঠিক কী কারণ ছিল, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।










