ভয়াবহ বন্যা ও হিমবাহ ধসে এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর পর ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কাছে জলবায়ু ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে নেপাল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর প্রতি সহায়তা কোনো করুণা নয়; বরং এটি জলবায়ু সংকট সৃষ্টিকারী দেশগুলোর নৈতিক ও ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে টাইমস নাউ।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমনে বড় ভূমিকা রাখা দেশগুলোর ঐতিহাসিক দায়িত্ব রয়েছে নেপালের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার। তিনি জানান, এ বিষয়ে নেপাল ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগীদের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতেও বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরবে।
গত ২৬ আগস্ট চীন সীমান্তসংলগ্ন নেপালের রসুয়া জেলায় হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে নেপালে ১ হাজার ১১৪ জন এবং চীনের অংশে আরও ১৬ জনসহ মোট ১ হাজার ১৩০ জন নিহত হয়েছেন। প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, হিমবাহ ধসে এই বিপর্যয় ঘটে। বৃষ্টিপাত না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা কোনো পূর্ব সতর্কবার্তাও পাননি। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই ঘটনাকে ‘পাহাড়ি সুনামি’র সঙ্গে তুলনা করেছেন।
খানাল বলেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে নেপালের অবদান মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য চার শতাংশ। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশটি ভয়াবহ দুর্যোগের চরম মূল্য দিচ্ছে।
ইউরোপীয় কমিশনের ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ৬১ দশমিক ৮ শতাংশের জন্য চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া যৌথভাবে দায়ী ছিল। নেপালের বিশেষজ্ঞরা জলবায়ু পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখা দেশগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।










