দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২ জনে।
একই সময়ে সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১১৯ জন। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১৮৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ৬৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। নতুন রোগী শনাক্ত ও উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা যোগ হওয়ায় দেশে হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১৯ হাজার ৯০৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। অন্যদিকে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮০ জনের শরীরে।
হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৯৩ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৮১৯ জন।
গত ২৪ ঘণ্টার হিসাবেও হাসপাতালে ভর্তি ও নতুন উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। এতে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে বলে সরকারি পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে।
হাম একটি সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এবং হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এ রোগের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে হাম শনাক্তের পাশাপাশি উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের একটি বড় অংশের ক্ষেত্রে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হচ্ছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে হিসাব শুরু করে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ২ জনে পৌঁছানোয় পরিস্থিতির ব্যাপ্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে মোট আক্রান্ত, উপসর্গযুক্ত এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও ক্রমাগত বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা শেষে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৪১ হাজার ৮১৯ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। তবে এখনও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ফলে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন রোগী শনাক্ত এবং হাসপাতালে ভর্তি পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগামী দিনগুলোতে নতুন রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই হাম শনাক্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।










