ইরাকের উপকূলের কাছে দেশটির জলসীমায় একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে ইরাকের আল-ফাও এলাকার দক্ষিণ-পূর্বে এ হামলা হয়। হামলার পর ট্যাংকারটিতে আগুন ধরে গেলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-ফাও থেকে প্রায় ৫২ কিলোমিটার বা ২৮ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানার খবর পেয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)।
ইরাকের বন্দর কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, হামলার শিকার ট্যাংকারটির নাম ‘নিউ অ্যান্ড্রোস’। পানামার পতাকাবাহী এই জাহাজটিতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ইরাকি ফুয়েল অয়েল ছিল। হামলার সময় জাহাজটিতে ২২ জন ক্রু ছিলেন। তাঁদের সবাই নিরাপদে আছেন এবং এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
জাহাজটির মাস্টারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার পরও সব ক্রু নিরাপদে ছিলেন। একই সঙ্গে জাহাজ থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ে কোনো পরিবেশগত ক্ষতি হয়েছে—এমন তথ্যও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, ড্রোনের আঘাতের পর ট্যাংকারটির একটি অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে জাহাজে থাকা কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। হামলার ফলে জাহাজটির কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ হামলার দায় স্বীকার করেনি। হামলাটি কারা এবং কী উদ্দেশ্যে চালিয়েছে, তা নিয়েও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।
তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপরও পড়ছে। ফলে এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরাকের জলসীমা ও আশপাশের সামুদ্রিক অঞ্চল দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন করা হয়। এ কারণে বাণিজ্যিক জাহাজে কোনো হামলা হলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট জাহাজের নিরাপত্তার জন্য নয়, আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
‘নিউ অ্যান্ড্রোস’ ট্যাংকারে থাকা বিপুল পরিমাণ ইরাকি ফুয়েল অয়েলের কারণে হামলার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তবে জাহাজের ক্রুরা নিরাপদে থাকায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে। পাশাপাশি এখন পর্যন্ত পরিবেশগত ক্ষতির খবর না পাওয়াও স্বস্তির বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো গোষ্ঠী বা দেশের নাম এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে, সেটি স্পষ্ট নয়। তদন্তের মাধ্যমে হামলার ধরন, ব্যবহৃত ড্রোন বা প্রজেক্টাইল এবং হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজে এই হামলা সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে তেল পরিবহনকারী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এখন সংশ্লিষ্ট দেশ ও আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।










