ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজে কঠিন সময় পার করছে পাকিস্তান। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেই বড় ব্যবধানে হেরে ইতোমধ্যে সিরিজ খুইয়েছে বাবর আজমের দল। এর মধ্যে দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানের বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পর তৃতীয় ও শেষ টেস্টে একাদশে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে পাকিস্তান।
বার্মিংহ্যামে সিরিজের শেষ টেস্টে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইংল্যান্ড। মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কথা বিবেচনায় নিয়ে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠান ইংলিশ অধিনায়ক জো রুট। তবে ম্যাচ শুরুর আগেই পাকিস্তানের একাদশ নিয়ে তৈরি হয় ব্যাপক আলোচনা। কারণ, একসঙ্গে তিন ক্রিকেটারের টেস্ট অভিষেক হয়েছে এই ম্যাচে।
পাকিস্তানের একাদশে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছেন উইকেটকিপার গাজী ঘোরি এবং দুই পেসার মোহাম্মদ ইমরান রন্ধাওয়া ও রাজাউল্লাহ। ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া এই তিন ক্রিকেটারের সামনে এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ।
তিন অভিষিক্তের মধ্যে গাজী ঘোরি সামলাবেন পাকিস্তানের উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব। তার অন্তর্ভুক্তিতে দলের ব্যাটিং ও একাদশের ভারসাম্যেও এসেছে পরিবর্তন। অন্যদিকে দুই পেসার ইমরান রন্ধাওয়া ও রাজাউল্লাহর ওপর থাকবে ইংল্যান্ডের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে ফেলার দায়িত্ব।
দ্বিতীয় টেস্টে বড় ব্যবধানে হারের পর পাকিস্তানের একাদশে মোট চারটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। তিন নতুন মুখের পাশাপাশি অলরাউন্ডার সাইম আইয়ুবও একাদশে ফিরেছেন। শেষ টেস্টে নতুনদের সুযোগ দিয়ে দলকে ভিন্নভাবে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্ট।
অন্যদিকে ইংল্যান্ড অবশ্য আগের দুই টেস্টে জয় পাওয়া একাদশেই আস্থা রেখেছে। সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা স্বাগতিকদের লক্ষ্য এখন শেষ ম্যাচেও জয় তুলে নিয়ে সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করা।
এদিকে একাদশে বড় পরিবর্তন এবং দলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতা নিয়ে বাইরের আলোচনা থাকলেও সেদিকে নজর দিতে চান না পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম। বরং ম্যাচের প্রস্তুতি এবং মাঠের পারফরম্যান্সেই মনোযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
টসের পর বাবর বলেন, নতুন ক্রিকেটারদের জন্য এই ম্যাচটি নিজেদের প্রমাণ করার ভালো সুযোগ। দলের সবাই নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করছে। বাইরের আলোচনা তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, তাই ম্যাচের প্রস্তুতি, খেলার পরিস্থিতি এবং নিজেদের যত্ন নেওয়ার দিকেই মনোযোগ রাখার চেষ্টা করছেন তারা।
প্রথম দুই ম্যাচে ব্যর্থতার পর সিরিজের শেষ টেস্টে পাকিস্তানের সামনে মূল লক্ষ্য অন্তত একটি জয় নিয়ে সিরিজ শেষ করা। সেই লড়াইয়ে তিন অভিষিক্ত ক্রিকেটারের পারফরম্যান্সও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কঠিন কন্ডিশনে অভিষেকেই তারা কতটা নিজেদের মেলে ধরতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।










