কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্রের গাইডেন্স সফটওয়্যার তৈরির চেষ্টা করেছে ইয়েমেনভিত্তিক হুথিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি অস্ত্র উন্নয়ন সেল। অ্যানথ্রোপিকের সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর হুমকি বিষয়ক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তরাঞ্চলীয় ইয়েমেনভিত্তিক একটি অস্ত্র উন্নয়ন চক্র নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্রের গাইডেন্স সফটওয়্যার তৈরির কাজে অ্যানথ্রোপিকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা ‘ক্লাউড কোড’ ব্যবহার করেছে।
অ্যানথ্রোপিকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে সন্দেহজনক অস্ত্র তৈরির কার্যক্রম শনাক্ত হওয়ার পর বিষয়টি সামনে আসে। তদন্তে সংস্থাটি জানতে পারে, সংশ্লিষ্ট চক্রটি মানব প্রকৌশলীদের বিকল্প হিসেবে ক্লাউডের একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছিল। তাদের কার্যক্রমের মধ্যে গাইডেড রকেট, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ‘আর২০০০’ নামের একটি বহুমুখী ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ত্র কর্মসূচিগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকৌশলগত কাজে একই সময়ে ক্লাউডের একাধিক সংস্করণ ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে উড্ডয়নকারী যান নিয়ন্ত্রণ, দিকনির্ণয় ও গাইডেন্স-সংক্রান্ত সফটওয়্যার তৈরিতে এআই ব্যবস্থাটির সহায়তা নেওয়া হয়েছিল।
অ্যানথ্রোপিক জানায়, তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ওই চক্রের অনেক অনুরোধ আটকে দিয়েছিল। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য আড়াল করার চেষ্টা করে এবং কাজগুলো ছোট ছোট অংশে ভাগ করে এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এর মাধ্যমে তারা অস্ত্র-সম্পর্কিত প্রকৌশল কাজে বাণিজ্যিক এআই কোডিং ব্যবস্থার ব্যবহার করতে সক্ষম হয়।
তদন্তে আরও উঠে আসে, এআইয়ের সহায়তায় একটি গাইডেড রকেটের পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। তবে পরীক্ষাটি সফল হয়নি। পরে রকেটটি কেন ব্যর্থ হয়েছে, তা বিশ্লেষণ ও কারণ অনুসন্ধানের জন্যও সংশ্লিষ্টরা ক্লাউড ব্যবহার করে।
অ্যানথ্রোপিকের মতে, ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এর মাধ্যমে একটি অস্ত্র প্রস্তুতকারী দল বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত এআই কোডিং ব্যবস্থাকে নিজেদের প্রকৌশল কার্যক্রমে কাজে লাগানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে। তবে সংস্থাটি একই সঙ্গে উল্লেখ করেছে, সংশ্লিষ্ট চক্রটি ক্লাউডের ওপর নির্ভর করার আগেই নিজেদের অফলাইন সিমুলেশন সরঞ্জাম তৈরি করেছিল। ফলে তাদের অস্ত্র উন্নয়ন সক্ষমতা কেবল এআই সেবার ওপর নির্ভরশীল ছিল না।
ঘটনাটি শনাক্ত হওয়ার পর অ্যানথ্রোপিক সংশ্লিষ্ট সব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে তদন্তসংক্রান্ত তথ্য সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
এই ঘটনা সামরিক ও অস্ত্র প্রযুক্তিতে বাণিজ্যিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে সফটওয়্যার উন্নয়ন ও প্রকৌশল কাজে এআইয়ের সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কীভাবে অস্ত্র তৈরির মতো সংবেদনশীল কাজে ব্যবহৃত হতে পারে, সে বিষয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।










