রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় পৃথক দুটি স্থান থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের বয়স আনুমানিক ৬৫ ও ৪৫ বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, দুজনই ভবঘুরে প্রকৃতির ছিলেন। অসুস্থতাজনিত কারণে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে শাহবাগ থানার পুলিশ জাতীয় ঈদগাহর প্রধান ফটকের সামনের ফুটপাত এবং কদম ফোয়ারা মোড় এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তৌফিক হাসান জানান, খবর পেয়ে সুপ্রিম কোর্টের সংলগ্ন ফুটপাত এবং জাতীয় ঈদগাহের পাশের এলাকা থেকে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ দুটির পরিচয় শনাক্তে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ফরেনসিক টিম কাজ করছে। মরদেহ থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ এবং বিভিন্ন তথ্যের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এসআই তৌফিক হাসান বলেন, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই দুই ব্যক্তি ভবঘুরে হিসেবে এলাকায় থাকতেন। তাদের নিয়মিত কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানা ছিল কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অসুস্থতাজনিত কারণেই তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি পুলিশ। মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
একইসঙ্গে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা গেলে পরিবারের সদস্য বা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিচয় শনাক্তের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
রাজধানীর ব্যস্ত শাহবাগ এলাকায় পৃথক স্থান থেকে একই সময়ে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত ঘটনাটিকে সন্দেহজনক মৃত্যু হিসেবে নিশ্চিত করেনি। প্রাথমিকভাবে অসুস্থতার বিষয়টি সামনে এলেও ময়নাতদন্তের আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
মরদেহ দুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।










