চট্টগ্রামের পটিয়ায় ঢাকাগামী একটি বাসের ব্যাটারি বক্সের পাশে বিশেষ কায়দায় তৈরি গোপন চেম্বার থেকে ৪০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ ঘটনায় বাসটির চালক ও হেলপারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত বাসটিও জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের পটিয়া উপজেলার মুজাফরাবাদ কলেজের পশ্চিম পাশে অভিযান চালিয়ে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রামেশ্বর দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বাসটির চালক মো. হোসেন (৪৬) ও হেলপার মো. পারভেজ মিয়া (৩৩)। মো. হোসেনের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার চিকনদণ্ডী ইউনিয়নে। আর পারভেজ মিয়ার বাড়ি মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায়। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের রাউজান এলাকায় বসবাস করেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের ওই বাসে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে বাসটির ব্যাটারি বক্সের পাশের ভেতরের অংশে বিশেষ কৌশলে তৈরি একটি গোপন চেম্বারের সন্ধান পান কর্মকর্তারা।
পরে চেম্বারটি খুলে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হিসাবে উদ্ধার করা ইয়াবার সংখ্যা ৪০ হাজার। কর্মকর্তারা জানান, মাদকগুলো যাত্রীদের দৃষ্টির আড়ালে রাখার উদ্দেশ্যেই বাসের ভেতরে বিশেষভাবে ওই গোপন কক্ষ তৈরি করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
সহকারী পরিচালক রামেশ্বর দাস জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে বাসটি থেকে ৪০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানের সময় বাসের চালক ও হেলপারকে আটক করা হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও গোপন অনুসন্ধানে বাসটি দীর্ঘদিন ধরে যাত্রী পরিবহনের আড়ালে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় ইয়াবা পাচারের কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা হবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, কক্সবাজার থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা পাচারের অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বাসটিতে অভিযান চালানো হয়।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক লোকাশীষ চাকমা বাদী হয়ে পটিয়া থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলার পর গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বাসটির গোপন চেম্বার ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক পরিবহনের অভিযোগের বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তদন্তে মাদক পাচারের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।










