দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন উদীয়মান অভিনেত্রী মামিতা বাইজু। অভিনয়জীবনের শুরু থেকে দর্শকের নজর কাড়া এই তারকা এবার গড়েছেন বিরল এক বাণিজ্যিক রেকর্ড। একই পঞ্জিকাবর্ষে তাঁর অভিনীত তিনটি সিনেমা বক্স অফিসে ২০০ কোটি রুপি আয়ের মাইলফলক অতিক্রম করেছে।
দুই বছর আগে দক্ষিণী সিনেমা ‘প্রেমালু’ দিয়ে ব্যাপক পরিচিতি পান মামিতা বাইজু। সিনেমাটিতে তাঁর প্রাণবন্ত অভিনয় দর্শকদের মধ্যে সাড়া ফেলে। এরপর ধারাবাহিকভাবে বড় বাজেট ও বাণিজ্যিক ঘরানার সিনেমায় কাজ করে নিজের জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া মামিতার তিন সিনেমা ‘জন নায়াগান’, ‘বিশ্বনাথ অ্যান্ড সন্স’ এবং ‘বেথলেহেম কুডুম্বা ইউনিট’ বক্স অফিসে ২০০ কোটি রুপির বেশি আয় করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে একই পঞ্জিকাবর্ষে তিনটি ২০০ কোটি রুপি আয়ের সিনেমা উপহার দেওয়া প্রথম দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী হিসেবে রেকর্ড গড়েছেন মামিতা। একই সঙ্গে দীপিকা পাড়ুকোন ও আলিয়া ভাটের পর ভারতের তৃতীয় অভিনেত্রী হিসেবে এমন বিরল সাফল্যের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
শুধু নতুন তিন সিনেমা নয়, ‘প্রেমালু’সহ মামিতার চারটি সফল সিনেমার সম্মিলিত বক্স অফিস আয় এক হাজার কোটি রুপি ছাড়িয়ে গেছে। মাত্র কয়েক বছরের ক্যারিয়ারে এমন বাণিজ্যিক সাফল্য তাঁকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের আলোচিত অভিনেত্রীদের কাতারে নিয়ে এসেছে।
বাণিজ্যিক সিনেমায় অভিনয় করলেও পর্দায় শালীনতা বজায় রাখার বিষয়টি মামিতার কাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁকে প্রথমবার বড় সুযোগ দেওয়া পরিচালক গিরিশ এডি, যিনি ‘সুপার শরণ্যা’ ও ‘প্রেমালু’ পরিচালনা করেছেন, মামিতার সাম্প্রতিক সাফল্যে খুব একটা অবাক নন। তাঁর মতে, মামিতা অত্যন্ত মেধাবী এবং ক্যামেরার সামনে তাঁর উপস্থিতি সহজেই দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
অভিনয়ের পাশাপাশি নাচেও দক্ষতা রয়েছে মামিতার। তাঁর মিষ্টি অভিনয়, প্রাণবন্ত পর্দা উপস্থিতি এবং স্বাভাবিক পারফরম্যান্স বিশেষ করে জেন জি প্রজন্মের দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা তৈরি করেছে। বাণিজ্যিক সিনেমার জনপ্রিয় নায়কদের সঙ্গে অভিনয় করেও নিজের উপস্থিতি আলাদাভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।
‘বিশ্বনাথ অ্যান্ড সন্স’ সিনেমায় মামিতার সহশিল্পী ও প্রখ্যাত অভিনেত্রী রাধিকা শরৎকুমারও তাঁর অভিনয় দক্ষতার প্রশংসা করেছেন। রাধিকার ভাষ্য অনুযায়ী, মহড়ার সময় মামিতা খুব দ্রুত দৃশ্যের আবেগ ও অভিনয়ের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো আয়ত্ত করে ফেলতেন। এমন দক্ষতা খুব কম শিল্পীর মধ্যে দেখা যায় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
কাজের প্রতি নিষ্ঠা, অভিনয়ের দক্ষতা এবং দর্শকের সঙ্গে সহজে সংযোগ তৈরি করার ক্ষমতা সব মিলিয়ে মামিতা বাইজুর ক্যারিয়ার এখন দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে একাধিক সফল সিনেমা এবং নতুন এই বক্স অফিস রেকর্ড তাঁকে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল অভিনেত্রী হিসেবে আরও শক্ত অবস্থান এনে দিয়েছে।










