অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে ধর্মীয় আচার পালন করেছেন প্রায় ২৫০ জন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফার বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাদের নিরাপত্তার মধ্যেই ওই ব্যক্তিরা আল আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন এবং সেখানে প্রার্থনা ও বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালন করেন।
আল আকসা মসজিদ মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় স্থাপনা এবং ইসলাম ধর্মের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হিসেবে বিবেচিত। এই পবিত্র স্থানের ব্যবস্থাপনা, প্রবেশাধিকার ও ধর্মীয় আচার পালনের বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে।
১৯৬৭ সালে নির্ধারিত একটি ‘স্ট্যাটাস কো’ ব্যবস্থার আওতায় অমুসলিমদের আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। তবে ওই ব্যবস্থায় অমুসলিমদের সেখানে প্রার্থনা করা বা ধর্মীয় আচার পালন করার অনুমতি নেই। ফলে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার পালনের ঘটনাকে ওই নিয়মের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনিরা আল আকসা প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের প্রবেশ এবং সেখানে ধর্মীয় আচার পালনের ঘটনাকে দীর্ঘদিন ধরে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে আসছেন। সর্বশেষ প্রায় ২৫০ জনের প্রবেশ ও ধর্মীয় আচার পালনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে আল আকসা প্রাঙ্গণে ইসরায়েলি উগ্র ডানপন্থি রাজনীতিক ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভিরের কর্মকাণ্ডও বিভিন্ন সময়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ২০২২ সালে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি একাধিকবার আল আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছেন।
আল আকসাকে ঘিরে এমন ঘটনাগুলো শুধু ধর্মীয় আবেগের বিষয় নয়, বরং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের অন্যতম স্পর্শকাতর ইস্যু হিসেবেও বিবেচিত হয়। তাই সেখানে প্রচলিত নিয়মের বাইরে কোনো ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলে তা দ্রুত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত উত্তেজনার কারণ হয়ে ওঠে।










