২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের পর প্রায় পাঁচ বছর ভারত ও চীনের কূটনৈতিক এবং সামরিক সম্পর্কে যে টানাপোড়েন চলছিল, তা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সাম্প্রতিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক উদ্যোগে সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এনডিটিভির এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক রাজনীতির পরিবর্তন, অর্থনৈতিক চাপ এবং নিজেদের কৌশলগত স্বার্থের কারণে দিল্লি ও বেইজিং নতুন করে সম্পর্ক স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
২০২৫ সালের আগস্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনে যোগ দিতে চীন সফর করেন। ২০১৮ সালের পর সেটিই ছিল চীনে তার প্রথম সফর। পরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফর করেন। দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের এই যোগাযোগকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত শান্ত রাখা, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। অন্যদিকে চীন তিব্বত ও তাইওয়ান ইস্যুতে ভারতের কাছ থেকে ‘এক চীন’ নীতির প্রতি আরও জোরালো সমর্থন চায়। একই সঙ্গে সীমান্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার বিনিময়ে অর্থনৈতিক সুবিধাও প্রত্যাশা করছে বেইজিং।
বাণিজ্যিক সম্পর্কও দুই দেশের নতুন হিসাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভারত চীন নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করলেও দুই দেশের বাণিজ্য এখনও ব্যাপক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১৫৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্কের নানা চাপের মধ্যে ভারতীয় বাজার চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ভারত বিনিয়োগ নীতিতে পরিবর্তন এবং সরাসরি ফ্লাইট চালুর মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তে বাফার জোন ও সংকট ব্যবস্থাপনায় গত দুই বছরে কিছু অগ্রগতি হয়েছে। কৈলাশ মানসসরোবর যাত্রা পুনরায় চালু এবং নদী সংক্রান্ত তথ্য আদান প্রদানও দুই দেশের যোগাযোগ বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে সীমান্ত বিরোধ, তিব্বত ও তাইওয়ান ইস্যু, ব্রিকস এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের মতো বিষয়গুলোতে মতপার্থক্য এখনো রয়েছে। ফলে সম্পর্কের এই উষ্ণতা কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে দুই দেশ নিজেদের স্বার্থ কতটা সমন্বয় করতে পারে তার ওপর।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং নিজেদের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে ভারত ও চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি সহযোগিতার পথও খুঁজছে। মতপার্থক্য পুরোপুরি দূর না হলেও বৃহত্তর স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার নতুন বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে।










