রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের যেকোনো ধরনের মিছিল, সমাবেশ ও রাজনৈতিক অপতৎপরতা কঠোরভাবে দমনের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এসব কর্মকাণ্ড ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ব্যর্থ হলে তাকে কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় রাজধানীর ৫০টি থানার ওসিদের এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে আওয়ামী লীগের একটি ঝটিকা মিছিলের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই মিছিলের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার মাত্র আট মিনিটের মধ্যে ঘটনাটি ঘটে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়নি। তবে ভবিষ্যতে রাজধানীর কোনো এলাকায় যেন দলটির নেতাকর্মীরা সংগঠিত হয়ে মিছিল, সমাবেশ বা অন্য কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারেন, সে বিষয়ে থানার ওসিদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজধানীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশমুখে নিরাপত্তা জোরদার এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চলাফেরার ওপর নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া আবাসিক হোটেলগুলোতে অবস্থানরত অতিথিদের তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ ও যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়। অপরাধ প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কার্যক্রম জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সভায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়েও কঠোর বার্তা দেওয়া হয়। ডিএমপি কমিশনার নির্দেশ দেন, ওসিদের নিয়মিত থানায় উপস্থিত থাকতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে থানার বাইরে যেতে হলে বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) লিপিবদ্ধ করতে হবে এবং দায়িত্ব কোনো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে বুঝিয়ে দিতে হবে।
দায়িত্ব পালনে গাফিলতি কিংবা শৃঙ্খলাভঙ্গ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলে সভায় সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে অপরাধ ও নাশকতা প্রতিরোধে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং থানা পুলিশকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।










