সকালে ঘুম থেকে উঠে অনেকেই তাড়াহুড়ো করে দিনের কাজ শুরু করেন। কেউ খালি পেটে চা বা কফি পান করেন, কেউ আবার ব্যায়াম কিংবা ওষুধ খাওয়ার মতো কাজও করে ফেলেন। এসব অভ্যাসকে অনেকেই স্বাভাবিক মনে করলেও চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, কিছু কাজ খালি পেটে করলে অস্বস্তি বা শারীরিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা ভালো।
খালি পেটে চা বা কফি পান: অনেকের দিন শুরু হয় এক কাপ চা বা কফি দিয়ে। তবে খালি পেটে এসব পানীয় পান করলে কিছু মানুষের গ্যাস, অম্বল, বুকজ্বালা বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা হতে পারে। তাই ঘুম থেকে উঠে আগে পানি পান করে হালকা কিছু খাওয়ার পর চা বা কফি পান করা তুলনামূলকভাবে ভালো অভ্যাস।
না খেয়ে ওষুধ খাওয়া: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খালি পেটে ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে কিছু ব্যথানাশক ওষুধ পাকস্থলীতে জ্বালা বা অন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। কোনো ওষুধ খাওয়ার আগে সেটি খাবারের আগে নাকি পরে খেতে হবে, তা চিকিৎসক বা ওষুধের নির্দেশনা অনুযায়ী নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
খালি পেটে ব্যায়াম: ওজন কমানোর জন্য অনেকে সকালে না খেয়ে ব্যায়াম করেন। তবে সবার শরীর খালি পেটে ব্যায়াম করার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে না। এতে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। প্রয়োজন হলে ব্যায়ামের আগে কলা, বাদাম বা অন্য কোনো হালকা খাবার নেওয়া যেতে পারে।
টক ফল বা দই খাওয়া: লেবু, কমলা, আনারসের মতো টক ফল কিংবা দই খালি পেটে খেলে কিছু মানুষের অম্বল বা বুকজ্বালা হতে পারে। বিশেষ করে যাদের এমন সমস্যা আগে থেকেই রয়েছে, তাদের সতর্ক থাকা ভালো।
খালি পেটে ধূমপান বা মদপান: ধূমপান ও মদপান এমনিতেই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। খালি পেটে এগুলো গ্রহণ করলে শরীরে বিরূপ প্রভাব আরও বেশি অনুভূত হতে পারে। তাই এসব অভ্যাস এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।
শুধু সালাদ খাওয়া: সকালে শুধু কাঁচা সবজি বা সালাদ খেলে সবার জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টি ও শক্তি নিশ্চিত নাও হতে পারে। খাবারে রুটি, ডিম, ডাল বা অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদান যুক্ত করা যেতে পারে।
ঘুম থেকে উঠেই কাজে বসা: ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল, কম্পিউটার বা ল্যাপটপ নিয়ে কাজে বসে যাওয়ার অভ্যাসও অনেকের রয়েছে। এতে দিনের শুরুতেই চোখ ও মস্তিষ্কের ওপর চাপ পড়তে পারে। তাই সকালে কিছু সময় নিয়ে পানি পান, প্রয়োজনীয় খাবার গ্রহণ এবং নিজেকে প্রস্তুত করে কাজে বসা ভালো।
তবে সবার শারীরিক অবস্থা এক নয়। কোনো খাবার বা অভ্যাসে নিয়মিত গ্যাস, বুকজ্বালা, মাথা ঘোরা কিংবা অন্য কোনো সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।










