কুমিল্লার দেবিদ্বারে আত্মহত্যায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মা ও ৮ মাস বয়সী ভাতিজিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভাবিকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্ত ইমন (২৫) নামের ওই যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ইমন ওই বাড়ির মৃত ফরিদ মিয়ার ছোট ছেলে।
নিহতরা হলেন ফরিদ মিয়ার স্ত্রী পেয়ারা বেগম (৬৫) এবং ইমনের ৮ মাস বয়সী ভাতিজি ইশরাত জাহান। এ ঘটনায় ইমনের ভাবি রাবেয়া আক্তার গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, রোববার দিবাগত রাতে ইমন ঘরে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তার মা পেয়ারা বেগম ও ভাবি রাবেয়া তাকে বাধা দেন। পরিবারের সদস্যদের বাধার কারণে সে সময় তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা থেকে সরে আসেন বলে জানা গেছে।
পরদিন সকালে ওই ঘটনা নিয়ে ইমন তার মা ও ভাবির সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান বলে স্থানীয়রা জানান। একপর্যায়ে ঘরে থাকা দা দিয়ে মা পেয়ারা বেগমকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ ওঠে। এরপর মায়ের কাছে থাকা ৮ মাস বয়সী ইশরাত জাহানকে আছড়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় বাধা দিতে গেলে ভাবি রাবেয়া আক্তারকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
ঘটনার শব্দ ও চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ইমনকে আটক করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। আহত তিনজনকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পেয়ারা বেগম ও ইশরাত জাহানকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত রাবেয়াকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ইমন দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। ফুটবল খেলতে গিয়ে পায়ে আঘাত পাওয়ার পর তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। এরপর তার আচরণে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে। তবে এসব বিষয় হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে নিশ্চিত করতে তদন্ত প্রয়োজন।
দেবিদ্বার থানার উপপরিদর্শক বাঁধন জানান, ঘটনার পর স্থানীয়রা ইমনকে আটকে রেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে। তার বিরুদ্ধে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
তিনি আরও জানান, নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আটক ইমন ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে। আটক ইমনের সম্পৃক্ততা এবং ঘটনার অন্যান্য বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। এ ঘটনায় মামলা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।










