জুলাই জাতীয় সনদের যেসব সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দলের নির্বাচনি ইশতেহারকে গুরুত্ব দিয়ে সংবিধানের ১৮তম সংশোধনী আনার প্রস্তুতি চলছে। বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং কমিটির সদস্য আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের বক্তব্যে এ অবস্থানের কথা উঠে এসেছে।
সংবিধান সংশোধন নিয়ে গঠিত বিশেষ কমিটি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। গত ১৩ জুলাই কমিটি গঠনের পর ৪ আগস্ট প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়া হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়ার কথা রয়েছে। কমিটি দ্রুত কাজ শেষ করতে নিয়মিত বৈঠকের পরিকল্পনাও করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে নোট অব ডিসেন্টসহ স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেভাবেই তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। যেসব সংস্কার প্রস্তাবে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের পাশাপাশি ভিন্নমতগুলোও সংশ্লিষ্ট নোট অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনি ইশতেহারে থাকা প্রতিশ্রুতিগুলোও সংস্কার প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে তিনি জানান।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, কোনো বিষয়ে বিএনপির ভিন্নমত থাকলে এবং সেই অবস্থান নির্বাচনি ইশতেহারে উল্লেখ করা থাকলে সেটিকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি জুলাই সনদের কাঠামোর মধ্যেই রয়েছে। অর্থাৎ ভিন্নমতের ক্ষেত্রে নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া অবস্থানকে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন।
জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের জন্য ৮৪টি প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে ৪৮টি সংবিধান সংশ্লিষ্ট। এসব সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য আগে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছিল। একই সঙ্গে সংস্কার প্রস্তাবগুলো নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়।
বিশেষ কমিটির আলোচনায় সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন, নির্বাচনকালীন ব্যবস্থা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামো, সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন বিষয় রয়েছে। এসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোথায় ঐকমত্য এবং কোথায় ভিন্নমত রয়েছে, তা বিবেচনা করেই সংশোধনী প্রস্তাব তৈরির কাজ এগোচ্ছে।
বিশেষ কমিটির লক্ষ্য অনুযায়ী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন সংসদে দেওয়া সম্ভব হলে পরবর্তী সময়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সংশোধনীতে কোন কোন প্রস্তাব কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে, তা সংসদীয় প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।










