বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত কোনো পক্ষের চাপিয়ে দেওয়া নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের প্রয়োজন ও দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন মাহদী আমিন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্যের পাশাপাশি এর আগে নিউইয়র্কে তিনি জানিয়েছিলেন, বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও বোয়িংয়ের মধ্যে ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বোয়িংয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ রয়েছে। চলতি বছর এর আগে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার জন্য আরেকটি চুক্তি হয়েছিল। ফলে নতুন চুক্তিসহ বিমানের মোট বোয়িং অর্ডারের সংখ্যা ২৫টিতে দাঁড়িয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের সময় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না। তবে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েই চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে।
জাতিসংঘ সফর প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, সফরকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘স্ট্র্যাটেজিক সিভিল নিউক্লিয়ার কো-অপারেশন’ নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, কৃষি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
মাহদী আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়ন, শান্তি, মানবাধিকার, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, এই সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের স্বার্থ ও সম্ভাবনাগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।










