আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের চার কোটি পরিবারের নারীপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, এই কর্মসূচির আওতায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীও ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি ধাপে ধাপে সম্প্রসারণ করা হবে। শুরুতে হতদরিদ্র পরিবার, এরপর নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত পরিবারের নারীপ্রধানদের এই কার্ডের আওতায় আনার কথা জানান তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কর্মসূচিটি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে এবং কোনো পরিবার বাদ যাবে না।
মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও এই কার্ডের আওতায় আসবেন। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, চার কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, কৃষকদের জন্যও কৃষক কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে দুই কোটি ১০ লাখ কৃষককে চার বছরের মধ্যে কার্ড দেওয়ার কথা বলেন তিনি। ভূমিহীন, প্রান্তিক, মধ্যম ও উচ্চ পর্যায়ের কৃষকদের ধাপে ধাপে এর আওতায় আনার কথা উল্লেখ করেন।
এ ছাড়া দেশের মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম এবং মন্দির, প্যাগোডাসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সম্মানী ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। কিছু এলাকায় এ কার্যক্রম পাইলট পর্যায়ে শুরু হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
স্বাস্থ্যসেবার জন্য এক লাখ ‘স্বাস্থ্য আপা’ নিয়োগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মীর শাহে আলম।
এ সময় শহীদ আবু সাঈদের পৈতৃক বাড়ি, ফাউন্ডেশন ও কবরস্থানের অবকাঠামো সম্প্রসারণে এক কোটি টাকা বরাদ্দের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।










