গাজীপুরে প্রিজন ভ্যান থেকে বহুল আলোচিত ও একাধিক মামলার আসামি ‘পিচ্চি রাজা’ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কোনাবাড়ী থানায় মামলা হয়েছে। টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে পুলিশ সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি পালিয়ে যান বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কোনাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিশ্বজিৎ মজুমদার বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ২২৪ ধারায় মামলাটি করেন। মঙ্গলবার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার আদালতে হাজিরা শেষে প্রায় ৩০ জন কারাবন্দিকে নিয়ে একটি প্রিজন ভ্যান কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের দিকে যাচ্ছিল। ভ্যানটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর মহানগরীর নাওজোড় এলাকায় পৌঁছালে ‘পিচ্চি রাজা’ টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে চিৎকার শুরু করেন।
পরিস্থিতি বিবেচনায় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা প্রিজন ভ্যান থামিয়ে তাকে নামিয়ে মহাসড়কের পাশে একটি শৌচাগারের দিকে নিয়ে যান। এ সময় তিনি কৌশলে পুলিশ সদস্যদের ধাক্কা দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের চোখের আড়ালে চলে যান তিনি।
পলাতক ‘পিচ্চি রাজা’ ঢাকার মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার, সরকারি কাজে বাধা এবং মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে আসামি পালানোর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পাঁচ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও কারও দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না, তা নির্ধারণে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে।
ঘটনার পর পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি প্রিজন ভ্যান থেকে আসামি পালানোর ঘটনায় দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।










