জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে প্রসিকিউশন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে এই আপিল আবেদন করা হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
এর আগে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ এখন সাজা বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে যেসব অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, সেগুলোর ধরন, মাত্রা ও গুরুত্ব বিবেচনায় ১০ বছরের কারাদণ্ড যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্রপক্ষ মনে করছে, এসব অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ কারণে আপিলের মাধ্যমে ইনুর সাজা পরিবর্তন করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
আপিল আবেদনে ট্রাইব্যুনালের রায়ের সংশ্লিষ্ট অংশ পর্যালোচনা করে সাজা পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মামলায় প্রমাণিত অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় দণ্ডের মাত্রা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
হাসানুল হক ইনু দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় এবং জাসদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ও পরবর্তী সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা করা হয়।
ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডের পর রাষ্ট্রপক্ষের এই আপিলের ফলে মামলাটি এখন উচ্চ আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আপিল বিভাগের শুনানি ও পরবর্তী আদেশের মাধ্যমে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তবে আপিলের আবেদনে মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলায় প্রমাণিত অপরাধের গুরুত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতেই এই আপিল করা হয়েছে।










