ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে স্থল হামলা চালায়, তাহলে দেশটির সামরিক ঘাঁটি ও যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। রোববার (৪ অক্টোবর) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে আইআরজিসির কমান্ডার ইন চিফের উপদেষ্টা গ্রুপের প্রধান আলী ফাদাবি এ সতর্কবার্তা দেন।
আলী ফাদাবির বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল অভিযান শুরু করলে আমেরিকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামরিক স্থাপনা, ঘাঁটি এবং জাহাজে হামলা চালানো হবে। তিনি বলেন, সামরিক শক্তির ভাষা যুক্তরাষ্ট্র বোঝে এবং ইরানের সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতা ব্যবহারের তুলনায় বেশি।
তার বক্তব্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির বিষয়টিও উঠে আসে। ফাদাবি বলেন, প্রণালিটি পরিচালনার ক্ষেত্রে ইরান ও ওমানের যৌথভাবে নিয়ম প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন করা উচিত। এ বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ও নৌ উপস্থিতি বাড়ানো হলে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজগুলো ইরানের হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন আইআরজিসির এই কর্মকর্তা। তার দাবি, ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইরানের ভূখণ্ডে কোনো হামলা হলে তেহরান তার জবাব সামরিকভাবেই দেবে।
ফাদাবি আরও বলেন, ইরান কোনো মুসলিম দেশে হামলা চালায়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের সামরিক অভিযানগুলো মুসলিম দেশগুলোর ভেতরে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে।
তার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সেখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে এর প্রভাব আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও পড়তে পারে।
তবে ফাদাবির বক্তব্যকে ইরানের পক্ষের হুঁশিয়ারি হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এ বক্তব্যের বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া জানায়, সেটিও পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি










