শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে ফ্রান্সজুড়ে প্রায় ৫০০টি হাইস্কুল আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সোমবার (৫ অক্টোবর) দেশের ৪০০ থেকে ৫০০টি স্কুলে পাঠদান স্থগিত থাকবে বলে জানিয়েছেন ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জেফ্রে।
শিক্ষামন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির অন্তত ২৪টি স্কুলে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জরাজীর্ণ অবকাঠামোর প্রতিবাদে গত সপ্তাহে রাজধানী প্যারিস থেকে এই বিক্ষোভের সূচনা হয়। পরে আন্দোলনটি মন্টপেলিয়ে, নানতেস, মার্সেইসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে।
ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন জানিয়েছেন, দেশটির প্রায় ৩ হাজার ৭০০ হাইস্কুলের মধ্যে ৭৩৫টি কোনো না কোনোভাবে চলমান বিক্ষোভ ও সহিংসতার কারণে প্রভাবিত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জেফ্রে অভিযোগ করেছেন, অতি-বামপন্থী কিছু কর্মী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে প্রবেশ করে সহিংসতা উসকে দিচ্ছেন। তার দাবি, আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষে ৭৮ জন শিক্ষা কর্মী আহত হয়েছেন। তবে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনিয়েজ জানিয়েছেন, শুধু শুক্রবারই ১ হাজার ৭৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুরুর পর থেকে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের প্রায় ৮৫ শতাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে না অভিযোগ করে আন্দোলনকারীরা মঙ্গলবারও বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে দেশটির বিভিন্ন শহরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকরনু জানিয়েছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিকভাবে শ্রেণি কার্যক্রম চালু রাখা, স্কুলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করার বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে।
একই সঙ্গে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর বা ক্ষতিগ্রস্ত করার ঘটনায় দায়ীদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের লক্ষ্যে ‘ভ্যান্ডাল-পেজ’ বিল বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। চলমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বিবেচনায় নিয়ে সংকট সমাধানের চেষ্টা করছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।










