মাত্র ৩৮ বছর বয়সেই ১৫৬ অসহায় ও দরিদ্র মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব নিয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সিরাজগঞ্জের সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস। অর্থের অভাবে যেসব পরিবার মেয়ের বিয়ে দিতে পারছিল না, তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সহযোগিতা সংগ্রহ করে বিয়ের আয়োজন করে দিচ্ছেন তিনি। এ কারণে স্থানীয়ভাবে অনেকেই তাকে এসব মেয়ের ‘বাবা’ হিসেবে পরিচয় দেন।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার আগনুকালি গ্রামের বাসিন্দা মামুন বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। নিজের ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং ফেসবুকের মাধ্যমে সহযোগিতা সংগ্রহ করে তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকার অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ান। বিশেষ করে যেসব পরিবার আর্থিক সংকটের কারণে মেয়ের বিয়ের আয়োজন করতে পারে না, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও অন্যান্য সহায়তা জোগাড়ের চেষ্টা করেন তিনি।
এ পর্যন্ত তার উদ্যোগে ১৫৬ জন অসহায় মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। যমুনার দুর্গম চরাঞ্চল চৌহালী, বেলকুচি ও এনায়েতপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তিনি এসব পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বিয়ের আয়োজনের পর মেয়েরা নতুন সংসারে যাওয়ার সময় তাদের নিজের মেয়ের মতোই বিদায় দেন মামুন।
সম্প্রতি মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে কামারখন্দ উপজেলার দুই তরুণীর বিয়ের দায়িত্ব নিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছেন তিনি। ঝাঐল ইউনিয়নের তেঘরি গ্রামের আবু তালেব ও সামিদা দম্পতির মেয়ে আতিয়া খাতুনের বিয়ের জন্য ফেসবুকের মাধ্যমে প্রায় ৩ লাখ টাকা সহযোগিতা সংগ্রহ করেন মামুন। গত ২৫ সেপ্টেম্বর সেই অর্থ দিয়ে আতিয়ার বিয়ের আয়োজন করা হয়।
এর ছয় দিন পর, ১ অক্টোবর জামতৈল গ্রামের সুচিত্রা রানি দাসের বিয়ের দায়িত্ব নেন তিনি। তার বিয়েতে প্রায় ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয় হয়। আর্থিক সংকটের কারণে সুচিত্রার বিয়ে একাধিকবার ভেঙে যাওয়ার পর মামুনের উদ্যোগে শেষ পর্যন্ত বিয়ের আয়োজন করা সম্ভব হয়।
মামুন বিশ্বাস বলেন, ১৫৬টি বিয়েসহ তার সব মানবিক কাজের কৃতিত্ব ফেসবুকের বন্ধু ও সহযোগীদের। তিনি শুধু মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আরও বেশি মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
জাতীয় তাঁতী সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুস ছামাদ খান বলেন, আন্তরিকতা ও ইচ্ছা থাকলে অসহায় এবং অভিভাবকহীন সন্তানদের জন্যও সুন্দরভাবে বিয়ের আয়োজন করা সম্ভব, মামুন বিশ্বাস তা করে দেখিয়েছেন। বিয়ের পাশাপাশি তিনি অসহায় মানুষের ঘর নির্মাণ, খাবার বিতরণ, গবাদিপশু ও দোকান দিয়ে স্বাবলম্বী করার মতো বিভিন্ন উদ্যোগেও যুক্ত রয়েছেন। নিজ গ্রামে পাখিদের জন্য একটি অভয়াশ্রমও গড়ে তুলেছেন তিনি।










