যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার পরও বারবার নতুন করে যুদ্ধ ও সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তাঁর দাবি, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নিজেদের সদিচ্ছার প্রমাণ দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু এর পরও ইরানের বিরুদ্ধে হামলা ও চাপ অব্যাহত রয়েছে।
সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান তার পরমাণু কার্যক্রমের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সহযোগিতার চেষ্টা করেছে। আইএইএর পরিদর্শকদের জন্যও ব্যাপক পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
ইরানের প্রেসিডেন্টের অভিযোগ, আইএইএর পরিদর্শকরা যখন ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে গেছেন, তখন এসব স্থাপনার তথ্য ও ইরানি পরমাণু বিজ্ঞানীদের পরিচয় প্রকাশ হয়েছে। পরে ওই স্থাপনাগুলোতে হামলা এবং কয়েকজন বিজ্ঞানী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
পেজেশকিয়ানের ভাষ্য, যে পক্ষ নিয়মিত হত্যা, নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগ করে এবং নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে না, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে কোনো কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব নয়। তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে তেহরানের বর্তমান অবস্থানের একটি ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদোল্লাহি বলেছেন, যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো যুদ্ধ শুরু হলে তার প্রভাব শুধু একটি পক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর খবরও সামনে এসেছে। জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট দীর্ঘ সময়ের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
এ ছাড়া ইউএসএস মাকিন আইল্যান্ডের নেতৃত্বাধীন একটি অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপেও প্রায় ২ হাজার ২০০ মেরিন সেনা ও অন্যান্য সদস্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই বহরে থাকা তিনটি জাহাজে প্রায় ২ হাজার নাবিকও রয়েছেন।
ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির খবর এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ও পারস্পরিক অবিশ্বাস অব্যাহত রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে কূটনৈতিক আলোচনা নাকি সামরিক চাপ, কোন পথে পরিস্থিতি এগোবে, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।










